বৈশাখে টিএসসিতে বস্ত্রহরণ : ৭ম দিনেও আন্দোলনে উত্তাল ঢাবি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) duরাজু ভাস্কর্যের সামনে নারীর শ্লীলতাহানি ও বস্ত্রহরণের ঘটনার ৭ম দিনেও দোষীদের শাস্তি ও ব্যর্থ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা এবং প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস। ৭ম দিনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার ক্যাম্পাস ঘুরে এই দৃশ্যই লক্ষ্য করা গেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া এ সকল দাবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা পাদদেশের পূর্ব পার্শ্বে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউয়িনের সভাপতি হাসান তারেক, সাধারণ সম্পাদক লাকি আকতার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ারসহ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনের লাইন ঢাবির অপরাজেয় বাংলা থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আর কতদিন নারীরা সমাজে এরকম অত্যাচারিত ও পুরুষদের দ্বারা যৌন লালসার শিকার হবে ? আমরা এর সমাপ্তি দেখতে চাই। যারা টিএসসিতে নারীদের বস্ত্রহরণ করেছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই সাথে যে সকল পুলিশ সেখানে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। তারা বলেন, টিএসসির ঘটনা নিয়ে প্রক্টরের মিথ্যাচার এবং এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। একই সাথে যতদিন তার পদত্যাগ হবে না ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। অপরাজেয় বাংলা পাদদেশের পশ্চিম দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। এসময় মানববন্ধনে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, সদস্য অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ, ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক ড. লায়লা নুর ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, টিএসসিতে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে আমরা তার বিচার চাই। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে কাজ করে যাচ্ছে। তারপরেও প্রশাসনকে আগামী ৭দিনের সময় দেয়া হলো। যদি এর মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি না হয় তাহলে কিভাবে দোষীদের বিচার করাতে হয় তা আমাদের জানা আছে। অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান বলেন, ছাত্র সংগঠনের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, আপনারা ইমোশোনাল হয়ে কোন কাজ করবেন না। ইমোশনাল হয়ে কাজ করতে গেলে দেখা যাবে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। এদিকে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে টিএসসির ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা’। এসময় মানববন্ধনে টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক মুনতাসির মাসুম ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: