বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর: বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ে ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে taka(জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক ঋণ অবমুক্ত হয়েছে ২৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ২৯ কোটি ডলার। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বৈদেশিক ঋণ অবমুক্তি কমে যাওয়ায় বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। জানা গেছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার প্রধানত দুটি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। এর একটি অভ্যন্তরীণ খাত, অপরটি বৈদেশিক খাত। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নেয়া হয় ব্যাংক থেকে। অপরটি আসে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড ইত্যাদি থেকে। অর্থবছরের শুরুতে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে কোন কোন খাত থেকে কী পরিমাণ ঋণ নেয়া হবে তা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণ না এলে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগের বছরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণ অবমুক্তি হচ্ছে না। একই সঙ্গে সুদের হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ আসছে না। ফলে ব্যাংকব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট বৈদেশিক ঋণ অবমুক্তি হয়েছে ৫০ কোটি ২২ লাখ ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে অবমুক্তি হয়েছিল প্রায় ৬১ কোটি ডলার। এই তিন মাসে ৫০ কোটি ডলারের মোট ঋণ অবমুক্তির মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ডলার। ফলে প্রকৃত বৈদেশিক ঋণ পাওয়া গেছে প্রায় ২৬ কোটি ডলার। অপরদিকে, গত বছরের একই সময়ে মোট ৬১ কোটি ডলারের ঋণ অবমুক্তির মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছিল ৩২ কোটি ডলার। ফলে নিট বা প্রকৃত ঋণ পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ে প্রকৃত ঋণ অবমুক্তি কমেছে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ।
একদিকে বৈদেশিক ঋণ অবমুক্তি কমে যাচ্ছে, অপরদিকে সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যেত, এখন তা সাড়ে ১১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে আগের মতো বিনিয়োগ করছেন না। বৈদেশিক ঋণের অবমুক্তি কমে যাওয়ায় এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আগের মতো না হওয়ায় বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়েছিল ১৪ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক ঋণ বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, এখন বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে। ফলে প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, এখন ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে পরিচালন ব্যয় কমাতে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু সরকার আর আগের মতো স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিচ্ছে না। বেশির ভাগ ঋণ নেয়া হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে। পাঁচ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি ঋণ নেয়া হচ্ছে অধিক হারে। এ ক্ষেত্রে দেশে বিনিয়োগ বাড়লে ব্যাংকগুলো আবার অর্থ সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: