বেদে গোষ্ঠীর সন্তানরা এখন স্বপ্ন দেখে চিকিৎসক আর ক্রিকেটার হওয়ার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর, সোমবার: ভেসে ভেসে চলাই ছিল তাদের নিয়তি। খাল-নদী বেয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ক্ষণিক বসত। তাই শিক্ষার আলো যেমন পড়েনি বেদেসন্তানদের চোখে, তেমনি বড় কোনো স্বপ্নও জাগত না কখনো।1
কিন্তু সময় বদলেছে। ভেসে ভেসে চলায় ক্লান্তি কিংবা উপযোগিতার অভাবে যাযাবর জীবন ছেড়ে কোথাও কোথাও থিতু হয়েছে অনেক বেদে পরিবার। তেমনই একটি বেদে গোষ্ঠীর বাস নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে। তাদের সন্তানরা এখন স্বপ্ন দেখে চিকিৎসক আর ক্রিকেটার হওয়ার।
বেদেপল্লীর সন্তান রহমত উল্লাহ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখি ডাক্তার হব। মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেব।’ রহমতের স্বপ্ন বাস্তব হওয়া কঠিন হবে না, কারণ সে মেধাবী। বেদেপল্লীর মুরব্বিদের ভাষায়, রহমত উল্লাহ সেই পল্লীর ভালো একজন ছাত্র। তার বাবা-মাও ছেলেকে বড় করে তোলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আদি পেশার মাধ্যমে।
শুধু রহমত উল্লাহই নয়, এখানকার প্রায় প্রতিটি শিশুর মনেই উঁকি দিচ্ছে নানা স্বপ্ন। দোলন ও ইয়াছিনের মতো অনেকেই চায় সাকিব ও সাব্বিরের মতো ক্রিকেটার হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারাও স্কুলে যায়, পড়ালেখা করে, ক্রিকেট খেলে।
এখানকার বেদেপল্লীতে রয়েছে ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার। কারো কারো আদি পেশা পরিবর্তন হয়েছে, তবে অন্যরা তাবিজ-কবজ দেয়া, ‘দাঁতের পোকা’ পরিষ্কার করা, বাতের রোগের ‘চিকিৎসার’ কাজ করে যাচ্ছেন এখনো।
বেদেপল্লীর প্রধানের ভাতিজা মো. আরফান বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ পরিবার আদি পেশাতেই আছেন। তবে কেউ কেউ আশপাশের গার্মেন্টসসহ নানা কলকারখানায় কাজ করেন। এখানকার শিশুদের তেমন কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা নেই। তবে আগে একসময় ছিল। এখন শিশুরা স্কুলে যায়, পড়ালেখা করে। খুব কম পরিবারের সন্তানই আছে যারা পড়াশোনা করে না।’
বেদেপল্লীর বাসিন্দা মনোয়ার বলেন, ‘বাপু, জীবনটা বড় কষ্টের রে। এখানে যারা আছে তারা সবাই গরিব। তবে আমাদেরও মানসম্মান আছে। কিন্তু বড় মানুষগুলান আমাদের সম্মানটা দেয় না।’ এই সম্মানের জন্য এখন বই হাতে নিচ্ছে বেদেসন্তানরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*