বেজার মাধ্যমে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: গত কয়েক বছরে রিজার্ভে একের পর এক মাইলফলক অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। ব্যাংকে এখন পর্যাপ্ত টাকা আছে। যারা প্রকৃতই ব্যবসা করতে চায় তাদের জন্য ঋণ অনুদানের এখন কোনো অসুবিধা নেই। ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থের জোগান, সেটা এখন ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে। ব্যবসার জন্য আমরা দিই ৩০ টাকা, আর ব্যাংক দেয় ৭০ টাকা। এই ৭০ টাকা না হলে তো ব্যবসা হতো না। সেদিক দিয়ে আমরা প্লাস পয়েন্টে আছি।
বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য যেসব রুল-রেগুলেশন আছে, তা আগের থেকে অনেক সহজ করে দেওয়া হয়েছে। দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে একটা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জমির স্বল্পতার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) তৈরি করা হলো। বেজার মাধ্যমে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
পাওয়ারের জন্য একটার পর একটা পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে। পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এবং টার্মিনেশনের জন্য অনেক কাজ করছে সরকার। এলএমজি আসবে ২০১৭-২০১৮ সালে। এর জন্য পাইপলাইন তৈরি করে ইনভেস্টমেন্ট করা হচ্ছে। যে উপকরণগুলো একটি শিল্পের জন্য লাগে সেসব উপকরণ সরকার জোগান দেওয়া শুরু করেছে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিক্যাল গ্রোথ ভাড়া শুরু হবে। ২০১৮ সালে অন্য একটা পজিশনে চলে আসবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। সে আশা আমরা করতে পারি।
দেশে গাড়ি তৈরি করতে ভারতের টাটা কোম্পানির সঙ্গে আমরা কথা বলা শুরু করেছি। আমরা নিজেরা অথবা প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে মিলে কাজ করব। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানিয়েছিলেন প্রগতিকে ব্যবহার করা যায় কি না। সেটাও আমরা অফার দিয়েছি। আজ আমাদের লোক মুম্বাই আছে। আমি আশা রাখি খুব শিগগিরই আমরা টাটার গ্রিন সিগন্যাল পাব। গ্রিন সিগন্যাল পেলেই অ্যাসেব্লি প্লান্টে চলে আসব। তখন সরকার আমাদের লোয়ার ডিউটি দিবেন। আর লোয়ার ডিউটি পেলেই আমরা গাড়ির দাম অনেক নিচে আনতে পারব বলে আশা করি।
ঢাকায় তিন হাজার লম্বা বাস নামানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। যেটা সারা বিশ্বেই চলে। বাসগুলো পাঁচটি কালারে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজে চলবে। আমি মনে করি, অচিরেই আমরা নতুন ডেভেলপমেন্ট দেখব। তখন এ রকম ভাঙাচুরা বাস আর দেখা যাবে না। তখন শৃঙ্খলা, টাইম মতো বাস চলবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর বিনিয়োগবান্ধব পজিশন আর ছিল না। শুধু মাত্র কয়েকটি দেশ না, সারা পৃথিবী বাংলাদেশের দিকে তাকাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় গেলাম তারা বলছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। জাপানে গেলাম তারাও বলছে, ওমানে গেলাম তারও বলছে। আমেরিকায় গেলাম তারাও বলেছে। সব দেশই এ দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে কোনো এক ভাগ পাওয়া যায় কি না সে জন্যই বিভিন্ন দেশ আমাদের কাছে আসছে। এখানে বিনিয়োগ করার জন্য তারা এখন দলে দলে বাংলাদেশে আসছে। আমরা প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে পাচ্ছি ও তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এটা প্রধানমন্ত্রীর বড় সাফল্য। তিনি দেশকে বিশ্বের কাছে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে পরিচিত করে তুলছেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশে সফর করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এখন তিনি সুইজারল্যান্ডে আছেন, সেখানেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথাই তুলে ধরেছেন। এটা আমাদের জন্য একটি বিরাট পাওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। বিগত ছয় মাসে অর্থনীতির কি অবস্থা ছিল তার রেজাল্ট আমরা দেখলাম। এক কথায় বলা যায়, বাংলাদেশ ঠিক মতোই চলছে এবং যে টার্গেট নেওয়া হয়েছে বেশিরভাগ টার্গেটের কাছাকাছি চলে এসেছে। কয়েক জায়গায় বেটার হয়েছে। মনে রাখতে হবে জনগণ যেভাবে উপকৃত হয় সেটাই সরকার এবং ফেডারেশন চায়। জনগণ চায় জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকুক। ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে জনগণের মুখে হাসি থাকে। সেই হাসিটাই আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি খুব দ্রুত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এফবিসিসিআইর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের দুরন্ত ঘোড়া, আর এ ঘোড়ায় চড়তে সব দেশই চায়। তাই সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*