বেঁচে থাকা জীবনবাজি রেখে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: ময়মনসিংহ শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন লাইনের পাশে একটা শব্দ। তাতেই ওরা বুঝতে পারেন রেল আসছে। কেউ সিলভারের হাড়িতে চুলায় সবে রান্না বসিয়েছেন, কেউ বা চৌকিতে শুয়ে। খেলাধুলো বা পড়াশুনা চলে ওই রেললাইনে বসেই। রেল সামনে আসার আগেই রান্না ছেড়ে, চকি উল্টে, সব ফেলে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে অভ্যন্ত ওরা। রেল চলে গেলে ফিরে আসা। এরই মাঝে ঘটে যায় অঘটন। তবু বদলায় না এই ছবি।
স্টেশনের আশপাশেই রেললাইন দখলের ছবি। লাইনের উপরেই থরে থরে প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে বিপজ্জনক ছাপড়া। কোনটি ট্রেন থেকে মাত্র এক চুল দূরে। অভিযোগ, গোটা পথেই এমন অসংখ্য ছাপড়া গজিয়ে উঠেছে। তাবু আর প্লাস্টিক ছাউনির ছাপড়া।
যাত্রীদের অভিযোগ, সেখানে রেললাইনের মাঝে থাকে পানির ড্রাম, লাইনেই কাপড় বিছিয়ে শুকোনো হয়। যাত্রীদের একাংশের এই নিয়ে অস্বস্তির শেষ নেই। কাজের সূত্রে প্রতিদিন জামালপুরে যাতায়াত করেন খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, রেল ঢুকলে চুলায় বসানো কড়াই চলে যায় রেলের  নিচে। জানালা দিয়ে থুতু ফেলতে গিয়ে অনেক সময়েই হয়তো পড়ে রান্না-খাবারে। ওই স্টেশন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কাজ বাড়ছে ওখান থেকেই।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ওখান থেকে অভিযুক্তকে ধরে আনতে পারি আমরা। এর বেশি কিছু করতে পারি না। ওটা রেলের জায়গা।
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজ জিন্নাহ বলেন, রুটিন মাফিক উচ্ছেদ হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসে। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান অসম্ভব।
স্থানীয় পত্রিকার রিপোর্টার প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, একতলা দুতলা বাড়ি নেই রেলের ঝিকঝিক শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে না ওদের।
বিশাল অট্টালিকা নেই, একতলা দুতলা বাড়ি নেই, এসি নেই, ফ্যান নেই জীবনকে জীবন না ভেবে কোন ঝুঁকি না ভেবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পরিবারগুলো নিরাপদভাবে বসবাস করে যাচ্ছে। বাসিন্দা আশি বছরের প্রবীণ নাসিমা বেগম বলেন, ঝিকঝিক শব্দ আমাদের বেঘাত ঘটে না। ঘুম এমনিই চলে আসে। আল্লাহর ওপর ভরসা নিয়ে বসবাস করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*