বুকে ব্যথা হলে অবহেলা নয়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬
হার্ট অ্যাটাকের অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় সুফল মেলে। কিন্তু সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার শুধু বাংলাদেশেই নয়; পৃথিবীজুড়ে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে।
বেশির ভাগ মানুষই বুকে ব্যথাকে অবহেলা করেন। অ্যাসিডিটির সমস্যা মনে করে অ্যান্টাসিড কিংবা অন্য ওষুধ খেয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। তা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি না হলে হার্ট অ্যাটাকের কিছু জরুরি চিকিৎসা যা ১২ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করতে হয়, তা দেওয়া সম্ভব হয় না। অথচ হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে সঙ্গে রোগী বিশেষায়িত কিছু হাসপাতালে ভর্তি হলে জীবনরক্ষাকারী ‘প্রাইমারি এনিজওপ্লাস্টিও’ করা সম্ভব হয় তাতে শতকরা ৯০ ভাগেরই বেশি রোগীর জীবন রক্ষা পায়।
কীভাবে বুঝবেন হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা? আসুন তা জেনে নেওয়া যাক। হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালি কোনো কারণে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের সূচনা হয়। এই সময়ে রোগী বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং এই ব্যথা বাঁ হাত, গলা ও নিচের চোয়ালের দিকে এমনকি কখনো কখনো ডান হাতের দিকে অনুভূত হতে পারে। আবার কোনো কোনো সময় ব্যথাটা পেটের উপরিভাগেই অনুভূত হয়, সঙ্গে বমিও হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা হঠাৎ করেই শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করে। কারও কারও পেটে প্রচন্ড অ্যাসিডিটি হয়। অনেক সময় রোগী এটাকে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা মনে করে ভুল করেন। কারও কারও প্রচন্ড ঘাম হয়, শ্বাসকষ্টও হতে পারে। কিছু রোগী প্রচন্ড বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা অনুভব না–ও হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হলে তাঁরা ঘামতে থাকেন, ক্লান্তবোধ করেন।
বুকে ব্যথা বিভিন্ন রোগের উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। হৃৎপিন্ডের আবরণী, ফুসফুস ও এর আবরণী, খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, পেনক্রিয়াস ও পিত্তথলির প্রদাহ এবং মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, হঠাৎ বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা শুরু হলে কিংবা এই ব্যথা শরীরের কোনোদিকে ছড়িয়ে পড়লে এবং সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও ঘামতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে রোগী যে কাজই করুক না কেন তা বাদ দিয়ে বসে পড়তে হবে এবং সম্ভব হলে শুয়ে পড়তে হবে। সম্ভব হলে একটি ‘এসপিরিন ৩০০ গ্রাম’ বড়ি সেবন করতে হবে। সঙ্গে অ্যাসিডিটির ওষুধও খাওয়া যেতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক ছোট-বড় সবার যেকোনো মুহূর্তে হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধানতা জরুরি। এবার জেনে নেওয়া যাক সেই বিষয়গুলো।

ধূমপান: যাঁরা ধূমপান করেন তাঁরা নিশ্চিতভাবেই ধীরে ধীরে নিজেকে হত্যা করেন। ধূমপান রক্তনালিতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে এবং করোনারি ধমনিকে সংকুচিত করে হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি করে। তাই আজই এই অভ্যাস বাদ দিন।

কায়িক শ্রম: হাঁটাচলার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। ইদানীং দেখা যায় তরুণ ছেলেমেয়েরাও তিনতলা, চারতলায় ওঠার জন্য লিফটের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস: মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা চর্বিজাতীয় খাদ্য ফাস্টফুডের প্রতি বেশি আগ্রহী। মাছের ভক্ত খুব কম। কেউ কেউ চিংড়ি মাছ, মুরগি ও গরুর মাংস ছাড়া অন্য খাবার পছন্দও করেন না। চট্টগ্রামের লোকজনের আবার মেজবানির প্রীতি বেশি। অনেক গৃহিণী আছেন যাঁরা রান্নায় স্বাদ আনার জন্য অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার করেন। এসব কারণে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

উচ্চ রক্তচাপ: কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে।

ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস হার্ট অ্যাটাকের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। শরীরের এমন কোনো অংশ নেই যা ডায়াবেটিসের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হয় না। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি।

তা ছাড়াও স্থূলতা, মানসিক চাপ, অবসাদ, বংশ প্রভাব হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে অনেকাংশে ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: