বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতি পতনের মুখে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জুলাই ২০১৭, রবিবার: নতুন এক গবেষণা মতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র যেমন চীন, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতি পতনের মুখে রয়েছে। এবং মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই এসব দেশের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্পেন এবং বেলজিয়ামের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর ভবিষ্যতও ভালো নয় বলেই বলা হয়েছে ওই গবেষণায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং স্বাধীনতার দাবি। দেশগুলো হলোৃ..
১. উত্তর কোরিয়া
এই দেশটি ক্রমাগত স্ব-নির্ভরতা এবং কর্তৃত্ববাদের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। কিন্তু দেশটি শুধু নিজেদের সীমানার মধ্যে থাকা সম্পদের উৎসগুলোই ব্যবহার করছে। অবশ্য দেশটি রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে সামান্য সাহাজ্যও নেয়। গবেষণা মতে, দেশটি তার একলা চলো নীতি ত্যাগ করবে এবং ক্রমান্বয়ে অন্যদের জন্যও নিজ দেশের সীমান্ত খুলে দেবে। আর এর পররাষ্ট্র সম্পর্ক রাশিয়া এবং চীনের বাইরেও সম্প্রসারিত হবে। ফলে আগের মতো আর থাকবে না উত্তর কোরিয়া।
২. বেলজিয়াম
এই দেশটি ফ্ল্যান্ডার্স এবং ওয়ালোনিয়ায় বিভক্ত হয়ে গেছে। এই দুটি অঞ্চলের মধ্যে খুব কম বিষয়েই মিল রয়েছে। ২০০৭ সালের সংকটের সময় দেশটির ভাগ হওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। ওয়ালোনিয়ার জনসংখ্যার বেশিরভাগই ফরাসি ভাষাভাষী। যারা ফ্রান্সের সঙ্গে এক হতে চায়। অন্যদিকে, ফ্লান্ডার্সের মানুষেরা ফ্লেমিশ এবং আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে স্বাধীন থাকতে চায়।
৩. চীন
এই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালি অর্থনীতিগুলোর একটি। দেশটির রয়েছে অনেক বড় এবং শক্তিশালি সেনাবাহিনী। কিন্তু চীনে যে একটানা ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তা কোনো বিদেশি হুমকি থেকে আসছে না। বরং নিজেদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করার কারণেই তাদের এই ধ্বংস চলছে। তবে বহুদিন ধরেই চীন তা মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এখন সমস্যা অনেক তীব্র আকার ধারন করেছে। বেইজিং এর মতো নগরগুলো বিষাক্ত ধুয়ায় কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে মাঝেমধ্যেই নগরের বাসিন্দাদেরকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়। চীনা সরকার এই পূর্বাভাসও দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যেই চীনের পানযোগ্য পানি সব শেষ হয়ে যাবে।
৪. ইরাক
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিও এমনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে যে সেই ক্ষত আর সহজেই সারানো যাবে না। তিনটি গোষ্ঠী এখন দেশটিতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত আছে। উত্তরে কুর্দিরা, পশ্চিমে সুন্নীরা আর দক্ষিণে শিয়ারা।
৫. যুক্তরাজ্য
স্কটল্যান্ড সবসময়ই যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হতে চেয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও বের হয়ে গেছে। ফলে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য এখন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিভক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
৬. আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসে গভীরভাবে বিভক্ত। জাতি রাষ্ট্রটি অনেকগুলো স্টেটের সমন্বয়ে গঠিত। আর প্রতিটি স্টেটের মানুষেরই আদর্শিক বিশ্বাস আলাদা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৭. স্পেন
২০০৮ সাল থেকেই দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। জিডিপিতে তাদের ঋণের হার ৯৪%। স্পেনের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ বেকার। ফলে দেশটির তরুণ জনসংখ্যা কাজের সন্ধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
৮. লিবিয়া
ইরাকের মতো লিবিয়াও পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে জন্ম নেওয়া একটি রাষ্ট্র। এটি তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত। আর এর জনগনও একটি ঐক্যবদ্ধ লিবিয়ার ধারণায় বিশ্বাসী নয়।
৯. মালদ্বীপ
এই দ্বীপ দেশটি শিগগিরই সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই দেশটি সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে ডুবে যাওয়ার ক্রমাগত হুমকিতে রয়েছে।
১০. বাহামা
বিশ্ব তাপমাত্রা আরো মাত্র ১.২ ডিগ্রি বাড়লেই এই দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ডুবে যাবে। আর সমুদ্রের উচ্চতা যদি মাত্র ৫ ফুট বাড়ে তাহলেই বাহামার ৮০% ভুমি সমুদ্রেগর্ভে হারিয়ে যাবে।
১১. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
মাত্র ৫০ হাজার মানুষের এই দ্বীপটিও সমুদ্রে গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
১২. ফিজি
এই দ্বীপের বাসিন্দারাও ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার মতো মূল ভূখন্ডের দেশে স্থানান্তরিত হতে শুরু করে দিয়েছে।
১৩. সলোমন দ্বীপপূঞ্জ
সমুদ্রের উচ্চতা বাড়াতে থাকার ফলে এই দ্বীপের ভূভাগ ইতিমধ্যেই সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।
১৪. টোকিও
বিশ্ব তাপমাত্রা আরো ২ ডিগ্রি বাড়লে টোকিওর অন্তত ৪০ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর হারাবে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*