বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি করা: প্রফেসর মান্নান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ নভেম্বর: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় দরকার, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক তৈরি হবে। আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে দেয়া সংবর্ধনার জবাবে মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। DSC_0354
প্রফেসর আবদুল মান্নান আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। এতে দেশ এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদেরকে শুধু একটি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করলে হবে না। সমসাময়িক বিশ্বের সবকিছু জানতে হবে। জ্ঞানের বিশ্ব অনেক বিস্তৃত উল্লেখ করে প্রফেসর মান্নান আরো বলেন, দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি জানতে হবে। একই সাথে বাহিরের জগৎকেও জানতে হবে। লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে নিজেদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মঞ্জুরী কমিশনের আওতায় চলমান উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প একটি সম্মানজনক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্প সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাস্তবায়ন হবে। সরকার চাইলে বিশ্বব্যাংক পরবর্তীতে আরো বেশি অর্থ এখাতে বরাদ্দ করবে বলে আশাকরা যায়।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্মস্থান চট্টগ্রাম শহরের একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের একটি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক তৈরি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সিকান্দর খান, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরল আনোয়ার, দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ডা: রায়হান ফারুক, রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম, বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম পরিচালক প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দিন, প্রক্টর প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. মো: মাসুদুজ্জামান, প্রফেসর ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র চন্দ, প্রফেসর ড. এমএ মতিন প্রধান, ড. শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মো: কবিরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় তার কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। এগিয়ে যাবে অনেক দূর।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সিকান্দর খান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সাথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সামনে রেখে সার্থকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এটি আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত “ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি ল্যাবরেটরি” উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ল্যাবরেটরি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, এনাটমি মিউজিয়াম ও ফিশ মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: