বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ ফেব্র“য়ারী: শহীদ মুস্তাক স্ট্যান্ডে বিরাটাকায় একটা পতাকা ঝোলানো রয়েছে। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে শোভা পাচ্ছে ‘দৌড়া বাঘ আইলো’ ব্যানার। স্তব্দ শের-ই-বাংলার গ্যালারি। মাঠে ভগ্ন মনরথে শুয়ে, বসে বাংলাদেশের যুবারা। এসবই বলে দেয় সাঙ্গ হয়েছে যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রাণের জোয়ার। টুর্নামেন্টের একাদশ আসরটাও কার্যত রঙ হারালো টাইগার জুনিয়রদের বিদায়ে।west
৪৯তম ওভারে শামার স্প্রিংগারের মারা দুটি চারে ব্যবচ্ছেদ হয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বপ্নের। দশম বারের চেষ্টায় সেমিফাইনালের নাগাল পেয়েছিল ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এ ব-দ্বীপ। এবার থামতে হলো শেষ চারের মঞ্চেই। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ক্যারিবিয়ান যুবারা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে উইন্ডিজরা। কাকলতীয়ভাবে, ২০০৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও ফাইনালে খেলেছিল তারা।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ইনিংস জুড়ে ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া বাংলাদেশ যুব দল সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান করে। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ৭ উইকেটে ২৩০ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দল। ব্যাটে-বলে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের কান্ডারি হয়ে যাওয়া স্প্রিংগার ম্যাচ সেরা হন।
২২৭ রানের টার্গেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গিডরন পোপের ঝড়ো ব্যাটিং থামানোর সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ ৪র্থ ওভারেই। ২৩ রানে থাকা পোপের সহজ ক্যাচ ফেলেন সালেহ আহমেদ শাওন। ক্যাচ ফেলার খেসারত বেশি বড় হয়নি। মিরাজের বলে বোল্ড হয়েছেন পোপ ৩৮ রান করে। তার আগে ৫ম ওভারে ইমলাককে (১৪) এলবির ফাঁদে ফেলে মিরাজই উইন্ডিজদের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন। ওপেনাররা ফিরলেও দ্রুত রান তোলার কাজটা চালিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অধিনায়ক হেটমায়ার ও কার্টি ৬২ রানের জুটি গড়েন তৃতীয় উইকেটে। ২২ রান করা কার্টিকে বোল্ড করে জুটি ভেঙেছেন শাওন। একপ্রান্ত আগলে খেলা হেটমায়ারকে দমিয়ে রাখার চেষ্টায় বিফল হচ্ছিল বাংলাদেশ। হাফ সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন তিনি। সাইফুদ্দিনের শিকার হওয়ার আগে হেটমায়ার ৫৯ বলে ৬০ রানের (৭ চার, ১ ছয়) মূল্যাবান ইনিংস খেলেন। ৩৮তম ওভারে গুলি (৯), পলকে (৪) আউট করে ম্যাচে নাটকীয়তার রসদ যুগিয়েছিলেন শাওন। ১৮১ রানে ৬ উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। ৭ম উইকেটে স্প্রিংগার ও ফ্রিউ ৩৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন বাংলাদেশকে।
মূলত গলার কাঁটা হয়ে স্বাগতিকদের হতাশায় ডোবান স্প্রিংগার। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসীকতায় ৮ বল আগে দলকে অসাধারন জয় এনে দেন তিনি। ৮৮ বলে ৫টি চারে ৬২ রান করে অপরাজিত ছিলেন স্প্রিংগার। বাংলাদেশের শাওন ৩টি, মিরাজ-সাইফুদ্দিন ২টি করে উইকেট পান।
এর আগে কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ক্যারিবিয়ান পেস ব্যাটারীকে ভালোভাবে সামলাতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা। ইনিংসের শেষ দিকেও মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ধরা দিয়েছিলেন উইন্ডিজ পেসাররা। যার কোপানলে পড়ে বোল্ড হয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটসম্যান। স্ট্যাম্প ছত্রখান হওয়ার মিছিলেও বাংলাদেশকে লড়াকু স্কোর পাইয়ে দিয়েছে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের হাফ সেঞ্চুরি।
টুর্নামেন্ট জুড়েই ব্যর্থতার প্ল্যাকার্ড বহন করে চলা বাংলাদেশের ওপেনাররা এদিনও ২৭ রানের মাঝেই সাজঘরে ফিরেছিলেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পিনাক ঘোষ (০) ফিরেন। সাইফ হাসান (১০) জোসেফের শর্ট বল সামলাতে না পেরে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন। ব্যাটিংয়ে দলের বড় ভরসা নাজমুল হোসেন শান্তও (১১) এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেননি। উইকেটে জমে গেলেও ইনিংস বড় করতে না পারার দোষে দুষ্ট জয়রাজ শেখ ও জাকির হাসান। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে জয়রাজ ৩৫, জাকির ২৪ রান করেন।
১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে আর্বিভূত হয় অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাইফুদ্দিনের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। তাদের যুগলবন্দি আড়াইশো রানের স্বপ্ন দেখিয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু ৪৬তম ওভারে পরপর দুই বলে তাদের বিদায় সেই আশায় গুড়েবালি করে দেয়। দলীয় ১৯৮ রানে ভেঙে যায় তাদের ৮৫ রানের জুটি। ৬৩ বলে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি করা মিরাজ আউট হন মিড অফে ক্যাচ দিয়ে। তিনি ৭টি চারে ৬০ রান করেন। ডাউন দ্য উইকেট এসে সাইফুদ্দিনও বোল্ড হন। তিনি ৩৫ রান করেন।
শেষদিকে মোসাব্বেকের ১৪, মেহেদী হাসান রানার অপরাজিত ১০ রানেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় টাইগার জুনিয়ররা। শেষ বলে রানআউট হন সালেহ আহমেদ শাওন (১)। উইন্ডিজদের পক্ষে কেমু পল ৩টি, স্প্রিংগার-হোল্ডার ২টি করে উইকেট পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*