বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ ফেব্র“য়ারী: বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনায়। চায়না সেবকো এইচটিজির সঙ্গে যৌথভাবে ৬০০ একর জমির ওপর ২০ হাজার কোটি টাকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ।
কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭০ শতাংশের মালিকানা চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের। ৩০ শতাংশের মালিকানা থাকবে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের। S. Alam
মঙ্গলবার বিকেল চারটায় ঢাকার আবদুল গণি সড়কের বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি হলে এ প্রকল্পের চুক্তি সই অনুষ্ঠান হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ প্রমুখ।
সোমবার রাতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বলেন, ‘আমার ৩০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পটি সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহ ও পরামর্শে এটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আমি সরকারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাবো এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই যেন চট্টগ্রামে বিতরণ করা হয়।’
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চাহিদা দেড় হাজার মেগাওয়াট।
এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাভু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে এটি এমন এক প্রকল্প যেখানে দেশের কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়নি। ফলে ব্যাংকিং খাতে বা অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার সামান্যতম আশঙ্কাও নেই। আর চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আগেই এ প্রকল্পের জন্য ৬০০ একর জায়গা আমরা কিনেছি। এটিও একটি নজিরবিহীন ঘটনা।’
তিনি বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাংলাদেশে দক্ষ কোনো শ্রমিক নেই। চীনের দক্ষ শ্রমিকেরা এসে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তাদের সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশি ৫ হাজার অদক্ষ শ্রমিক। এ অদক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকরাই আগামী দিনে কাজ শিখে আরও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে সক্ষমতা অর্জন করবে যা এদেশের শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
বিনিয়োগ করা ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার মালিকানা ও ঋণ দিচ্ছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সুব্রত ভৌমিক জানান, জার্মান ও আমেরিকান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। জাহাজ থেকে কয়লা নামানোর জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে তৈরি করা হবে বেসরকারি বন্দরের মতো একটি জেটি। প্রকল্প চলাকালীন এখানে কাজ করবে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে কর্মসংস্থান হবে ৬০০ জনের।
প্রায় ৩০ বছর আগে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পণ্য বেচাকেনা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন জনাব মাসুদ। তারপর একে একে ঢেউটিন, সয়াবিন তেল, সিমেন্ট, চিনি, সিআর কয়েলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলেন। এ ছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ফিন্যান্সসহ অসংখ্য বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার মালিকানা রয়েছে।
সম্প্রতি তিনি দেশের প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন একুশে টেলিভিশনের মালিকানা কিনে নিয়েছেন। ৫৭ বছর বয়সী এ শিল্পোদ্যোক্তা বিদেশ থেকে তেল, চিনি, গমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অন্যতম ভূমিকা পালন করছেন বলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*