বিদেশী গণমাধ্যমে গুলশানের হামলার ঘটনায় সরব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩ জুলাই: রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দেশি-বিদেশিদের জিম্মি ও হামলার খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।2 তাদের সবার নজর ছিল ঢাকার এ ঘটনার দিকে। গুলশানের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনার পরপরই শুক্রবার রাতে ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলো। প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যম এ হামলার খবরের পাশাপাশি সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্লগার, পুরোহিতসহ ধারাবাহিকভাবে যে সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর তথ্য জুড়ে দেয়। বিশেষ করে বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি, আল জাজিরা, সিএনএন, টেলিগ্রাফ ও দ্য হিন্দুসহ কয়েকটি গণমাধ্যম তাদের অনলাইনে ঘটনার লাইভ আপডেট দেয়। বিবিসি তাদের অনলাইন শিরোনাম করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জিম্মি সংকট। প্রতিবেদনে তারা আইএসের কথিত বার্তাসংস্থা ‘আমাক’র বরাত দিয়ে উল্লেখ করে ২০ বিদেশি বন্দুকধারীদের হাতে জিম্মি রয়েছেন এবং এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেন। আল জাজিরা শিরোনাম করে বন্দুকধারীদের হামলায় ঢাকার কূটনৈতিক এলাকা আক্রান্ত। কাতারভিত্তিক এ গণমাধ্যমটি জানায়, ইতালীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় তার নাগরিকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা (ভায়োলেন্স) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিএনএনের অনলাইন সংস্করণে আহতের সংখ্যা ৪০ জন উল্লেখ করা হয়। তাদের অনলাইনে হামলার জায়গাটি গুগল ম্যাপ দিয়ে চিহ্নিত করে পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করে। তারা আরও জানায়, ‘সন্ত্রাসীরা গুলির পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টি অবহিত হয়েছেন। মিশরের জাতীয় সংবাদ সংস্থা আহরাম অনলাইন শিরোনাম করেছে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত অ্যাবার্ট রেস্টুরেন্টটিকে জনপ্রিয় বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও আহরাম এ হামলাকে পুরোহিত হত্যার সঙ্গে যোগসূত্রের ইঙ্গিত করেছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভেদ জঙ্গিদের উত্থানে সহায়ক হচ্ছে।
রেস্তোরাঁর এক কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ‘হামলাকারীরা রেস্তোরাঁয় ঢুকেই বোমা ছুঁড়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’ এনডিটিভির খবরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ‘৮ থেকে ১০ জন এ হামলায় অংশ নেয়। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হবে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, ‘অন্তত ৬০ জন সেখানে আটকা পড়েছেন।’ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ‘ঢাকায় ভারতের দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ রয়েছেন।’ টেলিগ্রাফ তাদের খবরে বলে, ‘বাংলাদেশে চাপাতি হামলার ঘটনা ঘটলেও এ ধরনের সমন্বিত হামলা এটিই প্রথম।’ আনসার আল ইসলাম এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানায় পত্রিকাটি।
হামলার শিকার ক্যাফের এক কর্মীকে উদ্ধৃত করে স্কাইনিউজের খবরে বলা হয়, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র আর বোমা নিয়ে হামলা চালায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: