বিদায় বেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ ওবামা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ ডিসেম্বর, রবিবার:
দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কণ্ঠে গত আট বছরে শোনা গিয়েছে শুধুমাত্র আশার কথা। তবে বিদায় বেলায় এবার তিনি শোনালেন আশঙ্কা আর হতাশার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, দেশের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ সাংবাদিক বৈঠকে।
শঙ্কিত কণ্ঠে ওবামা বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভেদ দেশকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, তাতে বিদেশি শক্তির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করা অনেক সহজ।’
একই সঙ্গে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অসন্তোষের সুরে ওবামা বলেন, ‘রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সেই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাসটা ট্রাম্প ও তার দলের ভালো করে জেনে নেয়া উচিত।’
হোয়াইট হাউসে আসা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন প্রেসিডেন্টের গলায় এই প্রথম শোনা গেল স্বপ্নভঙ্গের কথা৷তিনি বলেন, দেশের রাজনীতির এখন এতটাই অবনমন হয়েছে যে সবাই সবাইকে সন্দেহ করছেন৷ যে যা করছেন, রাজনৈতিক বিভেদের কথা মাথায় রেখে৷ সব প্রতিষ্ঠানগুলো খারাপ লোকে ভরে গিয়েছে৷
ভোটের পর রিপাবলিকান ভোটারদের একাংশের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশস্তিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা৷ সমীক্ষা অনুযায়ী, রিপাবলিকান ভোটারদের এক তৃতীয়াংশ পুতিনকে ভালো চোখে দেখতে শুরু করেছেন৷…আসলে আমরা কী, আমরা কী চাই-সবই আমরা গুলিয়ে ফেলেছি৷
প্রচার চলাকালীন ডেমোক্রেটদের ইমেইল ফাঁস নিয়ে শোরগোল পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে। যা নিয়ে বিস্তর হইচই করেছিল মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। সেই প্রসঙ্গ টেনে ওমাবা বলেন, বড় বড় ইস্যু ছেড়ে আপনারা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ইমেইল নিয়ে৷ দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও ঠিকভাবে তুলে ধরা হল না৷ ফলও যা হওয়ার তাই হল৷
হিলারির পরাজয়ের জন্য পরোক্ষভাবে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকেও দায়ী করেন ওবামা৷ তিনি মনে করেন, ভোটের সময় হিলারির কথা ঠিক ভাবে লেখেনি সংবাদমাধ্যম৷

এদিকে সাংবাদিকরা সিরিয়া-সঙ্কটে তার ভূমিকার প্রসঙ্গ তুললে, কৌশলে ওবামা বুঝিয়ে দেন, পুরদস্তর সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধ করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছু করার ছিল না৷ আর সেই পথে তিনি হাঁটতে চাননি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*