বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা সারা দেশে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করায় অভিভাবক ও দর্শকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এরিমধ্যে আজ ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় মোট ৩৬৪ ছাত্রছাত্রী অংশ নেন এবং বহু সংখ্যক অভিভাবকমন্ডলী উপস্থিত থেকে ভর্তি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। Baitussaraf madrasha-31-12বায়তুশশরফ মাদ্রাসায় বিপুল সংখ্যক অভিভাবকমন্ডলী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বলে আনেকেই জানালেন। পড়ালেখার মান ভাল হওয়াতে অন্যান্য মাদ্রসার চেয়ে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে বহু সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অনিবার্যকারণ বশত: বেশ কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় তা আগামী ১০ জানুয়ারী সকাল ১০টায় পরীক্ষা নেয়া হবে বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন ১০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ফরম আজ ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারী পর্যন্ত প্রদান করা হবে। ভর্তি ফরম জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৮ জানুয়ারী বিকাল ৪ টা পর্যন্ত।  উক্ত মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী বেশী হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ২ শিফটে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছেন বলে অধ্যক্ষ জানান।  বর্তমানে মাদ্রসায় মর্ণিং ও ডে শিফটে ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত, তাদের শিক্ষাদানের জন্য ৫০ জন শিক্ষক রয়েছে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে ১ম স্থান ও জেডিসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার (রাহ.) এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বল্পকালে এ প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্যাভিমুখে বিস্ময়কর সফলতায় অগ্রসর হয়েছে-সৃষ্টি করেছে অসংখ্য ঐতিহ্য ও গৌরবগাথা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুযোগ্য শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। মর্ণিং শিফট প্রতিদিন সকাল পৌণে ৮ টায় শিশু শ্রেণী, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ডে শিফট প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় ষষ্ঠ শ্রেণী, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, আলিম, ফাযিল, কামিল হাদিস, কামিল তাফসির আরম্ভ হয়। Baitussaraf madrasha-31 Decemberএকটি মাদ্রাসার সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ণয়ের মাপকাঠি হলো মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার মান। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন বৃত্তি ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় ছাত্রদের ফলাফলই এ মান নির্ণয়ের প্রধান অবলম্বন। প্রতি বছর এ মাদ্রাসার ছাত্ররা ইবতেদায়ী ও জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষা, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিলের বোর্ড পরীক্ষায় প্রসংশনীয় ফলাফল লাভ করে আসছে। বৃত্তি পেয়ে এবং মেধা তালিকভুক্ত হয়ে মাদ্রাসার অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। ১৯৯১ ও ২০০০ সালে এ মাদ্রাসা বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করে দুর্লভ গৌরবের অধিকারী হয়। যুগোপযোগী মাদ্রাসা শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও পূর্ণ ইসলামী শিক্ষার প্রসারে অত্র মাদ্রাসার প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য এ বিরল সম্মান একান্ত অনিবার্য ছিল। মাদ্রাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছেন বাহারুল উলুম হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (মজিআ) এবং অধ্যক্ষ হিসাবে কর্মরত মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: