বায়তুশ শরফে “শানে মোস্তফা (স.)” গজলের আসর সম্পন্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বর: বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর উদ্য্যেগে ৪ দিনব্যাপি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে “শানে মোস্তফা (সঃ)” নাত ও গজলের আসর ২৩ ডিসেম্বর বাদে মাগরিব বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব বাহরুল উলূম শাহসূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (মঃজিঃআঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।baitussarafতিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সঃ) যাঁর জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল মানব কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন, তিনি স্বাভাবিক ভাবেই উপলব্ধি করেন যে, সমাজ বিনির্মাণ ও বিবর্তনের ক্ষেত্রে সাহিত্য-সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গঠনে যেমন মানবতাবাদী পরিচ্ছন্ন সাহিত্য-সংস্কৃতি অপরিহার্য, তেমনি মানবতাবিরোধী ও অশ্লিল সাহিত্য-সংস্কৃতি যে কোন সমাজকে ধ্বংস ও বিপর্যয়ের দ্বার প্রান্তে ঠেলে দেয়। তদুপরি সত্যিকার আল্লাহর বান্দাহর কোন কাজ উদ্দেশ্যহীন হতে পারে না। অশুভ অকল্যাণকর কিংবা গর্হিত কোন কাজের তো প্রশ্নই উঠে না। “শিল্পের জন্যে শিল্প” এই নিরর্থক কুটিল বাক্য একজন সত্যিকার আল্লাহর বান্দাহর জন্য ভারসাম্যহীন ও অশোভনীয়। কেননা বান্দাহর প্রতিটি কাজ তার মাবুদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে নিবেদিত হতে বাধ্য। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনায়নের মাধ্যমে মুমিন ঘোষনা করে যে, “আমার নামায, আমার কোরবানী আমার জীবন, আমার মৃত্যু- কেবল বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই উৎসর্গকৃত।” তাই রাসূলুল্লাহ (সঃ) সুস্থ, রুচিকর, সৃজনশীল মানবতাবাদী সাহিত্য সৃষ্টির জন্য নির্দেশ দান করেছেন, অনুপ্রেরণা যোগিয়েছেন। অপর দিকে মিথ্যা, অশ্লিল, অরুচিকর মানবতা-বিধ্বংসী সাহিত্যকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং এর রচিয়তাদের নিন্দা করেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: “কারো মর্জির তোয়াক্কা না করে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে গ্রথিত কথামালা মানুষকে দান করতে পারে অসীম মর্যাদা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির পরোয়া না করে মানুষের মনোরঞ্জনের জন্যে লেখা কোনও কথা তাকে পৌঁছে দেবে জাহান্নামের দ্বার প্রান্তে।” তিনি আরো বলেন- আমাদের শিল্প সাহিত্যের উৎসমূলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ই হলেন একমাত্র রাহবর। তাঁর উর্বর, সমৃদ্ধ ও বিজ্ঞান সম্মত সাহিত্য-চিন্তা, যা লালন করা সুস্থ, মানবতাবাদী ও কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণ ও বিবর্তনের খাতিরে প্রত্যেক যুগেই, প্রত্যেক দেশেই, প্রত্যেকের জন্য অতীব প্রয়োজন। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে যে সর্বাত্মক অবিরাম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। ঈমানী তেজোদ্দীপ্ত সালিহ-মুত্তাকীদেরকেও গুরুত্ব যথাযথ ভাবে উপলব্ধি করে স্বীয় দায়িত্ব পালনে যতœবান হওয়া আবশ্যক। এ দায়িত্ব পালন নিঃসন্দেহে জিহাদের সমতুল্য। কবি হাসসান, কা’ব ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহ (রা.) প্রমুখ এ জীহাদী দায়িত্বই পালন করে গেছেন, আর এ ক্ষেত্রে রেখে গেছেন এক বর্ণাঢ্য, স্বর্ণোজ্জ্বল ঐতিহ্য।
এতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আ.ন.ম. মুনির আহাম্মদ চৌধুরী, শাইখুল হাদীস মাওলানা জয়নুল আবেদীন, অধ্যাপক মাওলানা ফৌজুল কবির, খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা কাজী জাফর আহমদ, মাওলানা ফরহাত আলম, মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা শব্বির আহমদ, মাওলানা সিরাজুল হক নদ্ভী, মাওলানা শফিক আহমদ নঈমী।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমান উল্লাহ খান, আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ আনোয়ার আহমদ।
সম্পাদক আলহাজ্ব লুৎফুল করিম, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী (সঃ) উদযাপন কমিটি ২০১৫ এর আহবায়ক লায়ন আলহাজ্ব রফিক আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা ওবাইদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এ. বি. কে. মহিউদ্দীন শামিম, আলহাজ্ব খুরশিদ আলম, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক, আল্হাজ্ব মুহাম্মদ মিফতাহুল হুদা, হাজী আহমদ হোসাইন, আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন, মুহাম্মদ হাসান, চৌধুরী গোলাম রব্বানী, হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মাওলানা আব্দুল হাই নদ্ভী, মাওলানা সালাহ উদ্দীন বেলাল, মাওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দীন, মাওলানা মোহাম্মদ মূসা, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দীন, মাওলানা আব্দুশ শাকুর, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা নুরুদ্দীন মাহমুদ, মুহাম্মদ এহছানুল হক মিলন প্রমুখ। এতে সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক হেলাল হুমায়ুন ।
শানে মোস্তফা (সঃ) গজলের আসরে দেশে বিদেশের বহু উর্দ্দূ, ফারসী, বাংলা গজলের শায়েরের পদচারণায় বাদ মাগরিব থেকে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ উৎসব মুখর হয়ে উঠে।
উল্লেখ্য যে, আজ ২৪ ডিসেম্বর বাদে মাগরিব থেকে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ নি¤েœাক্ত ৪জন গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা, স্মরণ ও মরোণত্তর “বায়তুশ শরফ স্বর্ণ পদক” প্রদান করবে।
* বাংলাদেশে শিল্প ও বাণিজ্যের পথিকৃৎ, নির্ভীক বিচারক, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সমাজ সেবক হিসেবে মরণোত্তর স্মরণÑ মরহুম এ. কে. খান, চট্টগাম।
* সফল শিক্ষক, শিক্ষক নেতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ- আলহাজ্ব মাওলানা এ. কে. মাহমুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল, চট্টগ্রাম।
* আদর্শ শিক্ষক, হাদীস শাস্ত্রের গবেষক, কবি ও কথা সাহিত্যিক এবং আরবি শিক্ষার প্রচার প্রসারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ- প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, (আহসান সাইয়্যেদ) ভাইস চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
* চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে দুঃস্থ -মানবতার সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রাম।
পরিশেষে বায়তুশ শরফের মাননীয় পীর ছাহেব বাহরুল উলুম শাহসুফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (মঃজিঃআঃ) মাহফিলের সফলতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন

Leave a Reply

%d bloggers like this: