বায়তুশশরফে নানামুখী সৃজনশীল ও মননশীল কার্যক্রম চলছে : বায়তুশশরফের পীর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন উপলেক্ষ বায়তুশ শরফ আঞ্জুুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের আয়োজনে চার দিনব্যাপী তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতা, গুণীজন সংবর্ধনা ও আজিমুশশান ওয়াজ মাহফিল আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে। এবার চারজন গুণীব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা এবং বায়তুশ শরফ স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। গতকাল নগরীর ধনিয়ালাপাড়ার বায়তুশ শরফ ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে বায়তুশ শরফের পীর বাহরুল উলুম শাহ সুফি হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন এসব তথ্য জানান। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতা, গুণীজন সংবর্ধনা ও আজিমুশশান ওয়াজ মাহফিলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আহসান সাইয়্যেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান, বায়তুশ শরফ আঞ্জুুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের সিনিয়র সভাপতি মীর আনোয়ার আহমদ, মাসিক দ্বীন দুনিয়ার প্রধান সম্পাদক মাওলানা এ কে মাহমুদুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি আমান উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল করিম, যুগ্ম আহবায়ক লায়ন মোহাম্মদ রফিক আহমদ, সাংবাদিক হেলাল হুমায়ুন, মাওলানা আবুল হায়াত মোহাম্মদ তারেক, এ বি কে মহিউদ্দিন শামিম, মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, লিয়াকত আলী চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুল করিম মানিক, সংবাদিক কামরুল হুদা, সাংবাদিক মাহবুবুর রশীদ, শামীম হামিদ, সাংবাদিক শোয়েব খান, এয়াকুব আলী মনি, মোহাম্মদ হোসাইন, হাফেজ আমান উল্লাহ, এস এম জামাল উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। 1অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক দ্বীন-দুনিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ। বায়তুশ শরফের পীর বাহরুল উলুম শাহ সুফি হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন মতবিনিময় সভায় জানান, ‘১৯৮৪ সাল থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলেক্ষ বায়তুশ শরফে তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জানুয়ারি তা শুরু হয়ে ৪ জানুয়ারি শেষ হবে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ১ জানুয়ারি হেফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা, পাখ-পাখালির আসর, ২ জানুয়ারি কিরাত, হামদ, কবিতা আবৃত্তি এবং আল্লামা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন রচিত ‘গুলহায়ে আকীদত’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও শানে মোস্তাফা সা:, ৩ জানুয়ারি আজান-কিরাত প্রতিযোগিতা ও গুণীজন সংবর্ধনা এবং ৪ জানুয়ারি আজিমুশশান ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল। এ বছর চারজন গুণীব্যক্তিকে সংবর্ধনা ও বায়তুশ শরফ স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। তারা হলেন ইসলামি শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং দ্বীনি খেদমতে অনন্য অবদানের জন্য আওলাদে রাসূল (সা:) হজরত মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী, ইউনানী চিকিৎসার মাধ্যমে জটিল রোগব্যাধি উপশম এবং হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের জন্য ড. হাকিম মো: ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া, বিজ্ঞানশিক্ষার বিকাশ ও প্রচার-প্রসার এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং চিকিৎসার মাধ্যমে অগণিত মানুষের ডায়াবেটিক রোগ উপশমে সহযোগিতা এবং আর্তমানবতার সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি। বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব কেবলা বাহরুল উলুম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের আহবান জানিয়ে বায়তুশ শরফের নানামুখী সৃজনশীল ও মননশীল কার্যক্রম সম্বন্ধে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং আখেরি মুনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। 345বায়তুশশরফের অধ্যক্ষ সাইয়্যেদ আবু নোমান বলেন, যারা মানুষের অবদানের স্বীকৃতি চায় না তারা আল্লাহরই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। তিনি বলেন বিশ্ব মানবতার আদর্শ শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি অন্ধকার যুগে এসে আলোর দিশা দিয়েছেন, মানুষকে সৎ পথে চলার আহবান জানিয়েছেন। যাতে অশান্তি দূর হয়। নবী আসার আগের যুগকে অজ্ঞতার যুগ বলা হত, তিনি আসার পর শান্তিতে বিশ্ব যাহান আলোকিত হল। পৃথিবীর ক্রান্তিকালে নবীর আগমনে সব ঠিক হয়ে যায়। আমরা সেই নবীর উম্মত, তার কথা ও কাজ আমরা মেনে চললে আমাদের আর কোন দু:খ থাকবে না। হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসে মানব সভ্যতাকে উদ্ধার করেছে। অগ্নি উপাসকদের অগ্নিকুণ্ড নিভে গিয়েছিল। গোটা বিশ্ববাসীর জন্য তার আগমন বার্তা যেন এক আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। তিনি আরো বলেন, মুহাম্মদ মানে চির প্রশংসিত, তিনি যেভাবে প্রশংসিত, তাঁর কাজ সমূহও সেই রকম ছিল। তিনি মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করছিল, তখন মদিনা বাসী মুহাম্মদ (সা.) কে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তার আগমনে মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ ও আনন্দ। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে এ মাসই আনন্দ ও উল্লোসিত হবার সময়। তিনি আরো বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান এ নবীর উম্মত। আল্লহার রাসুলকে জানা, বুঝা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। জীবনের সর্বক্ষেত্রে রসুলের আদর্শ মেনে চললে আমাদের সব দু:খ দুর্দশা চলে যাবে। সাংবাদিকদের ইংগিত করে অধ্যক্ষ  নোমান বলেন, জাতির ক্রান্তি লগ্নে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখতে হবে, যদি সঠিক ভূমিকা রাখতে না পারেন তার জন্য জবাবদিহি হতে হবে। আপনাদের কলমের মাধ্যমেই জিহাদ হবে। রাষ্ট্রের প্রধান থেকে শুরু করে নিম্ন শ্রেণীর মানুষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের কলমকে সমীহ করে। সেইজন্য আপনাদের কলমের মর্যদা অবশ্যই রাখতে হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: