বান্দরবানে শিমের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

মোঃ নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান : বান্দরবানে শিমের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকদের মুখে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর টানা হরতাল-অবরোধে পরিবহণ সংকটে Bandarban shim pic-1পড়েছে শিম চাষীরা। ফলে শিম বিক্রি করতে হিমসিম খাচ্ছে কৃষকরা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রচুর পরিমান শিম নিয়ে চাষীরা চরম সংকটে পড়েছেন। শিমচাষীদের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর শিমের উৎপাদন ভাল হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন Bandarban shim pic-2মৌসুমের শুরুতে ঘনঘন হরতাল ও অবরোধে পরিবহণ বন্ধ থাকায় বান্দরবানের বাইরে শিম সরববরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় বাজার সমূহে চাষীরা কম দামেই শিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচও উঠবে কিনা তা নিয়েও চাষীরা শংকায় আছেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিভিন্ন স্থানBandarban shim pic-3 থেকে ব্যবসায়ীরা না আসায় এবছর জেলার বাইরে শিম সরববরাহ করা যাচ্ছে না। বছরের এ ভরা মৌসুমে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ৩০/৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এবছর কেজি ১৫/২০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। চেমি ডলু পাড়ার Bandarban shim pic-4শিম চাষী নুরুল ইসলাম বলেন, শিমের দাম মোটামুটি পেয়েছি। তবে হরতাল-অবরোধ না হলে শিমের দাম আরো ভালো পেতাম। জমিনের অনেকগুলো শিম নষ্ট হয়ে গেছে। ভাল দাম না পাওয়ার কারণে আমরা শিম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছি না। যে টাকা খরচ করে শিম চাষ করেছিলাম সে টাকা তুলতে পারবো কিনা জানি না। না তুলতে পারলে আমাদের লোকসান হবে। এদিকে কৃষি বিভাগের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে চলতি মৌসুমে শিমের ফলন ভালো হয়েছে। এবার লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশি শিম উৎপাদিত হয়েছে। চলতি বছর বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রায় ৪ শত হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। গড়ে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৪ মে: টন শিম উৎপাদন হচ্ছে এবং মূল উৎপাদন প্রায় ৬ হাজার মে: টন। বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আলতাফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিবহনের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অবস্থার পরিবর্তন হলে সমস্যা কেটে যাবে। চাষীরা শিমের ন্যায্য দাম পাবে। রাজনৈতিন দলগুলো এক সাথে বসে একটা সমঝোতায় আসলে কৃষকরা হয়তো আলোর মুখ দেখবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: