বান্দরবানে বস্তা পরিবর্তনের মাধ্যমে চাল পাচার করে দিচ্ছে ডিও হোল্ডার

মোঃ নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান : বান্দরবানে সরকারী ডিও হোল্ডার চালেরBandarban pic বস্তা পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা ও পাচার করে দেবার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবান বাজারের পৌর শপিং কমপ্লেক্স এর পাশে রাজামিয়া এন্ড সন্স ডিও ও বিশেষ বরাদ্ধের চাল স্বল্প মূল্যে কিনে তা আকর্ষণীয় ব্রান্ডের কোম্পানীর বস্তায় ভরে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। শুধু তাই নয়, চাহিদার অতিরিক্ত চাল বান্দরবানের অন্য উপজেলায় না দিয়ে তারা পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে পাচার করে দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। বান্দরবানের চাল ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবানের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল অন্য জেলায় পাচার করা নিষিদ্ধ হবার কারণে যারা ডিও ও সরকারী বিশেষ বরাদ্ধের চাল ক্রয় করে থাকে, অতি মুনাফার লোভে বান্দরবান খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে বস্তা পরিবর্তন বা নতুন কৌশল অবলম্বন করে তা অনত্র পাচার করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক চাল ব্যবসায়ী বান্দরবানে এই ভাবে চাল ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছে। অনেকেই গড়েছেন বিলাস বহুল অট্টালিকা। সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারের পৌরশপিং কম প্লেক্সের সামনে প্রায় সময়ই রাজামিয়া এন্ড সন্স এর মালিক মোঃ রাসেলসহ আরো কয়েকজন ডিও হোল্ডার রাতের আধাঁরে জনসম্মূখে শত শত বস্তা পরিবর্তন করছে। এই ব্যাপারে জানার পরও সকলেই পালন করছে নিরব দর্শকের ভূমিকা। কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বান্দরবান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, জেলা পরিষদের জন্য বরাদ্ধ আসে, জেলা প্রশাসনের জন্য বরাদ্ধ আসে, উপজেলা পরিষদের জন্যও বরাদ্ধ আসে। তারা তাদের বরাদ্ধ গুদাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ে যাবার পর আমাদের আর কোন কিছু করার এখতিয়ার থাকে না। বস্তা পরিবর্তন করলে তার ব্যবস্থা নিবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নাই। বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, রাজামিয়া এন্ড সন্স এর বস্তা পরিবর্তনের বিষয়টি আমি সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এই ধরনের অনুমোদনবিহীন ব্রান্ডের কোম্পানীর নাম ও আকর্ষনীয় বস্তা ব্যবহার করলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: