বান্দরবানে একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বান্দরবানে পারিবারিক কলহের জের ধরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং মৌজার ক্যামলং এলাকার পাইম্রং ঝিরি এলাকায় আব্দুল মোতালেবের ঘোনায় ব্যবসায়ী আবু বক্করের খামার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতরা হলেন, মো. আমিন (৪০), ছেলে মো. জোনায়েদ (৯), তার বোন সামিরা বেগম (৩৫) ও ছেলে সৈয়দ নুর (৬)। তারা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক। পুলিশ লাশ bandarban picউদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয় গোপাল দাশ জানান, গত ১২/ ১৩ বছর ধরে নিহত সামিরা বেগম কেয়ারটেকার হিসাবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবু বক্করের খামার বাড়িতে বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তার বড় ভাই মো. আমিন ৩য় স্ত্রী নিয়ে একই ঘরে বসবাস করেন। দীর্ঘ দিন ধরে মো. আমিন এবং তার ৩য় স্ত্রী হাসিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১৫ দিন আগে হাসিনা আক্তার স্বামী মো. আমিনের সাথে ঝগড়া করে চট্টগ্রামের দোহাজারী বার্মা কলোনীতে চলে যায়। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ করে আমিনের স্ত্রী হাসিনা ও তার এক ভাইকে এই এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। তার ধারণা পারিবারিক কলহের জের ধরে সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টার মধ্যে আমিনের স্ত্রী হাসিনা ও তার ভাইসহ কয়েক জনে মিলে এই চারজনকে গলা কেটে হত্যা করে। শুক্রবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খরব দেয়। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহাম্মদ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাইমব ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোন রহস্য আছে কিনা সে বিষয়েও পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বহু বিবাহ প্রবণতা বেশি। জায়গার মালিক ব্যবসায়ী আবু বক্কর জানান, বান্দরবানে আমার ১২০ একর জায়গা রয়েছে। রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য কেয়ারটেকার হিসাবে গোপাল দাশ নামে একজনকে দায়িত্ব দেই। পরে জানতে পারি গোপাল দাশ আমার জায়গাতে একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে থাকতে দিয়েছে। তবে এই জায়গা নিয়ে কারো সাথে বিরোধ নেই বলে তিনি জানান। তবে স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছেন, বেশ কিছু দিন ধরে পার্শ্ববর্তী ক্যামলং পাড়ার কিছু উপজাতি এই জায়গা দখল করতে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ধারণা উক্ত ব্যক্তিরা এই জায়গা দখল করতে কেয়ারটেকারকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। এদিকে ঘটনার পর বান্দরবানের সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*