বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে কঠিন চীবর দানোনুষ্ঠান

মোঃ নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান: বান্দরবানে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে বান্দরবানে পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ থেকে কঠিন চীবর দানোৎসবের র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহর ঘুরে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহারে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বুধবার রাতে বান্দরবানের কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহারে ৩ দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেনBandarban Pic 1 পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। এ সময় অন্যদের মধ্যে পার্বত্যাঞ্চলের অন্যতম বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু কেন্দ্রীয় বিহারের অধ্যক্ষ উচহ্লা ভান্তে, জেলা ও দায়রা জজ শফিকুর রহমান, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যাসাপ্র“সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ধর্মানুরাগীরা উপস্থিত ছিল।
চীবর (কাপড়) ছাড়াও অনুষ্ঠানে ভান্তেদের মধ্যে চাল, টাকা, মোমবাতি, আগরবাতি ও নাস্তাসহ বিভিন্ন উপকরন দান করা হয়।
প্রসঙ্গতঃ পুণ্যের আশায় কঠিন চীবর দানোৎসবে পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারীরা একরাতের মধ্যে তুলা থেকে চরকায় ঘুরিয়ে সুতা তৈরি করেন। সেই সুতায় রঙ লাগিয়ে কাপড় বুনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধানের জন্য তৈরি করা হয় চীবর (কাপড়)। পরের দিন নতুন সুতায় তৈরি করা চীবর ভিক্ষুদের মধ্যে দান করার নামই হচ্ছে কঠিন চীবর দান।Bandarban Pic 2
প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধের মহাপুণ্যবতী নারী বিশাখা দেবী এই কঠিন ব্রতী পালন করে বুদ্ধকে চীবর দান করেছিলেন। সেই থেকে প্রতিবছর বান্দরবানেও বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে ব্যাপক আয়োজনে কঠিন চীবর দানোৎসব ধর্মীয়ভাবে পালন করে আসছে পাহাড়ের বৌদ্ধ সম্প্রদায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাহাড়ি নারীরা এক রাতের মধ্যে না ঘুমিয়ে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে নতুন সুতায় কাপড় বুনে চীবর তৈরি করে। পরিধানের যোগ্য করে চীবর গুলো ভিক্ষুদের মধ্যে দান করব, এটি হচ্ছে কঠিন চীবর দানোৎসব। এদিকে কঠিন চীবর দানোৎসবে পাহাড়ের বৌদ্ধবিহারগুলোতে পঞ্চশীল প্রার্থনা এবং প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: