বান্দরবানের কালাঘাটায় রাতের আঁধারে পাহাড় নিধন চলছে

বান্দরবান প্রতিনিধি, ০৬ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: যখন সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চলছে, ঠিক ওই মূহূর্তে বান্দরবানের কালাঘাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটলেন সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে আসা কালাঘাটার মোঃ নুরু।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোঃ নুরু রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে রামজাদী যাবার পথে পূর্ব কালাঘাটার মসজিদের পাশে রোয়াংছড়ি সড়ক সংলগ্ন পাহাড়টির বিরাট অংশ কেটে ফেলেছেন। আর অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড় কাটার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে রোয়াংছড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছাড়াও মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মোঃ নুরু মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে সৌদি আরব থেকে বান্দরবান এসেছে। আসা মাত্রই তিনি লুসাইমং থেকে সদ্য কেনা পাহাড়টি রাত ১২ টার পর থেকে শুরু করে ভোর হবার আগ পর্যন্ত সারা রাত ধরে স্কেভেটর দিয়ে কাটছেন। অতি শব্দে ঘুমাতে না পারলেও কিছু সন্ত্রাসী মদ্যপ অবস্থায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে পাহাড় কাটার স্থানটি ঘিরে রাখার কারণে বাঁধা দেবার সাহস পাইনি। স্কেভেটর সম্পর্কে জানতে চাইলে এলাবাসীরা বলেন, নোয়াপাড়া সড়ক উন্নয়নের জন্য ঠিকাদার মোঃ জসিম স্কেভেটরটি এনেছিল। কাজ শেষ হয়ে যাবার পর ঠিকাদার তার স্কেভেটরটি মোঃ নুরুকে ভাড়া দেয়।  এভাবে ঠিকাদাররা যেন ভবিষ্যতে আর কাউকে অন্যায়ভাবে পাহাড় কাটার জন্য সহায়তা করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ঠিকাদার মোঃ জসিম এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, স্কেভেটরটি আমি চট্টগ্রাম থেকে সড়ক উন্নয়নের জন্য ভাড়া এনেছি। আমার কাজ শেষ হয়ে যাবার পর নুরুর অনুরোধে আমি তাকে স্কেভেটরটি দিয়ে সহায়তা করেছি। পরে জানতে পেরেছি এটি দিয়ে সে রাতে পাহাড় কাটছে। আমি তাকে আর পাহাড় কাটতে না করেছি। আজ থেকে সে আর পাহাড় কাটবে না বলে আমাকে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কালাঘাটার ওসমান বলেন, মোঃ নুরু এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরব থেকে বান্দরবান এসেছেন। এর মধ্যে তিনি তার জায়গায় পাহাড় কাটতে শুরু করেছেন। কিন্তু বান্দরবানের কালাঘাটায় আরো অনেকের পাহাড় আছে, তারা কেউ পাহাড় কাঁটার সাহস করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে নুরু কালাঘাটা ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত কমিশনারের মাধ্যমে এ পাহাড়টি লুসাই মং এর কাছ থেকে ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে কালাঘাটার রহিম বলেন, কয়েকদিন ধরে রাত ১২টার পর নুরু পাহাড় কাটছে। আমরা স্কেভেটরের শব্দে ঘুমাতে পারছি না। কিন্তু প্রতিদিন এলাকায় মদ্যপান করে কিছু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে বসে থাকার কারণে ভয়ে কিছু বলতে পারিনি। এ ভাবে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে পাহাড় কর্তনকারী কালাঘাটার নুরু বলেন, আমি মাত্র ২২ মে সৌদি থেকে বান্দরবান এসেছি। তবে কোন পাহাড় আমি কাটিনি। কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার পাহাড় কেটে ফেলেছে তা আমি জানি না। আমিও তাদেরকে খুঁজছি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালাঘাটার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ বলেন, প্রবাসী নুরু কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে পাহাড় কাটছে তা আমি শুনেছি ও দেখেছি। তবে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে কারা ছিল তা আমি জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আকতার বলেন, পাহাড় কাঁটার বিষয়টি আমি জানি না। তবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মাসুদ করিম বলেন, বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের সম্ভাবনা বেশি থাকে বিধায় এ সময় পাহাড় কেউ যেন পাহাড় কাটতে না পারে সে দিকে আমাদের নজর রয়েছে। যে বা যারাই পাহাড় কাটুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: