বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ ফেব্র“য়ারী: বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় সবসময়ই রফতানির চেয়ে বেশি। আমদানি যতটুকু বেশি, ততটুকু হলো বাণিজ্য ঘাটতি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতনের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করা হয়েছিল; কিন্তু পরিসংখ্যান তা বলছে না। লেনদেন ভারসাম্যের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই- ডিসেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৩২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।dollar
গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আমদানি ও রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশের মতো। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কম ছিল। এর কারণ, আমদানি ব্যয় কম ছিল। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আমদানি বেশ বেড়েছে।
বিদেশের সঙ্গে লেনেদেনে আমদানি, রফতানি ও রেমিট্যান্স মুখ্য ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বেড়েছে। রফতানি খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ কমে গেছে। রেমিট্যান্স নিয়েই এখন দুশ্চিন্তা। রেমিট্যান্সের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ভোগের সম্পর্ক রয়েছে। রেমিট্যান্স কমে গেলে অর্থনীতিতে চাহিদা কমে যেতে পারে। রেমিট্যান্সের সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৬৪ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে চেয়ে ১ শতাংশ কম। গত অর্থবছরেও তেলের দাম কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। এর পরও রেমিট্যান্সে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল।
আইএমএফ বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। রফতানি নিয়েও সংস্থাটির আশাবাদ কম। এ অবস্থায় আইএমএফ চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে ২৭০ কোটি ডলারের ঘাটতি থাকবে বলে সংস্থাটির প্রাক্কলন। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ নিয়ে আর্টিকেল-ফোর পর্যালোচনায় আইএমএফ এমন মতামত দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিদেশের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে বর্তমানে একমাত্র দুর্বলতা রেমিট্যান্স। আমদানি বেড়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ। রফতানিও বাড়ছে। রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও সম্প্রতি বিদেশে জনশক্তি রফতানি বেড়েছে। এর ফলে রেমিট্যান্সের দুর্বলতা কেটে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে অর্থবছর শেষে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল মনে করেন, রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও তা বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ তৈরি করবে না। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। অবশ্য রেমিট্যান্স বাড়ানোর প্রয়োজনীতা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর গ্রামে ভোগপ্রবণতা নির্ভরশীল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা রয়েছে।
আইএমএফ যা বলেছে : আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি ধীরগতিতে চলছে। এ পরিস্থিতি রফতানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি দেশের মধ্যে সম্প্রতি যে টিপিপি চুক্তি হয়েছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য হবে বিধায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ রফতানি হয় টিপিপিভুক্ত দেশে। আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তেলের নিম্নমূল্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*