বাণিজ্যের আড়ালে বাড়ছে অর্থ পাচার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার: বাণিজ্যের আড়ালে বাড়ছে অর্থ পাচার। নজরদারির অভাবে দিনের পর দিন অনিয়ম বেড়েই চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে অবৈধ লেনদেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৭৮টি কন্টেইনারে প্রায় হাজার কোটি টাকার পণ্য ছাড়ের প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। অথচ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ করা হয় মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাণিজ্য লেনদেনে তদারকি আরো বাড়াতে হবে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয় দেশের সিংহভাগ আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহার একদিকে যেমন বাড়ছে অন্যদিকে শঙ্কার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে লেনদেনের ঝুঁকি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার বাড়ছে। এ ধরনের বড় একটি চালান ধরেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। যেখানে মেসার্স হেনান আনহুয়া এগ্রো ও অ্যাক্র অ্যান্ড জেপি নামে প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৫টি চালানে ৭৮টি কন্টেইনার খালাস নিয়েছে। আর এই চালানের মোট মূল্য ১হাজার ৪০ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ হয়েছে তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে বাকি টাকা অবৈধ ভাবে পাচার হয়েছে।

এ সম্পর্কে এনবিআরয়ের সাবেক এস এম আমিনুল করিম বলেন, অর্থ কোন না কোন ভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে । এনবিআরেরই এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অব্যবস্থাপনার যে চিত্র গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে এগুলো অর্থ পাচারের সাথে জড়িত।’

তদন্তে কাস্টমস হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের গাফলতির প্রমাণ মিলেছে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ সম্পর্কে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন ,‘ এনবিআর আর বাংলাদেশ ব্যাংক যতই শক্তিশালী এমনকি সিমান্ত রক্ষাকারি বাহিনী শক্তিশালী হোক যদি তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে না যায় তাহলে তাদের সক্ষমতা তো কাজে লাগাতে পারবে না।’

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলা ও লেনদেনে মারাত্মক ত্রুটিও উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্যিক লেনদেনে এখনও কঠোর কোন নীতি-কৌশল গ্রহন করতে পারেনি রাজস্ব বোর্ড।
সূত্র: যমুনা টিভি

Leave a Reply

%d bloggers like this: