বাকস্বাধীনতা!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও কয়েকটি সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে চারটি মানববন্ধন হচ্ছিল, কিন্তু এদের মধ্যে একটি মানববন্ধনের সামনে উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখা গেল, একটি ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছে আছেন ১০/১২ জন তরুণ। তারা এসেছেন বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে। ফিউচার অব বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের সবার মুখে কালো কাপড় বাঁধা, সেখানে আবার একটি করে তালা মারা। পাশেই একজন দাঁড়িয়েছেন, তার হাতে একটি বড় খাঁচা। খাঁচার ওপর লেখা ‘কথা বললেই বন্দী’।


প্রতীকী এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা আবরার হত্যার বিচার চাই। কতটা পাষাণ হৃদয় হলে একজন মানুষকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা যায়? এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। তারা বলেন, পুরো দেশবাসী এই বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। যেহেতু এটা পুরো দেশবাসীর দাবি সেহেতু আমরা আশা করব এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে প্রতীকী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল হোসেন টোয়েল, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল রেজাউল হোসেন অনিল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে জি সেলিম, ফয়সাল প্রধান, সদস্য আল আমিন, জুয়েল আহমেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করে বুয়েটের ৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৯ জনকে।
এছাড়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ কমিটির ১১ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*