বাংলাদেশ ব্যাংক ভুয়া দলিলে ঋণ ঠেকাতে মাঠে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর, রবিবার: ভুয়া জাল দলিল দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বন্ধ করতে এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঋণগ্রহীতার জামানত হিসেবে যে জমি দেখানো হবে তার দলিল, দাগ নম্বর, খতিয়ান, জমির পরিমাণ সব তথ্য 1খতিয়ে দেখতে হবে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে। খেলাপি না হলেই ঋণ দাও— এ নীতিতে এখন থেকে আর ঢালাওভাবে ঋণ দেওয়া যাবে না কাউকে। এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বি আরপিডি) শাখার মহাব্যবস্থাপক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, ‘আগে ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার সময় শুধু দেখত ঋণগ্রহীতা খেলাপি কিনা। এতে জাল বা ভুয়া দলিল দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নেওয়া ঠেকানো যাচ্ছিল না। এমনকি দলিল ঠিক হলেও একই দলিল দিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে অসত্য তথ্য দিয়ে ঋণ নেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।
এখন আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দিয়েছি, তারা যাতে খেলাপি ঋণের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতা যে সম্পদ জামানত হিসেবে দেবে তার দাগ নম্বর ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্যও যেন সংগ্রহ করা হয়।’ এর ফলে ভুয়া জামানত বা একই দলিল দেখিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়া বন্ধ হবে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা। হলমার্ক-বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো একাধিক প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়ার পরও এ ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি কমছে না। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বোঝা বেড়েই যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও ঘটছে এ ধরনের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, অসত্য তথ্য দিয়ে ব্যাংকের পরিচালকরাই এখন নিজ ব্যাংকের পাশাপাশি অন্য ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। বিনিয়োগে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে জামানতের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে জামানতসংক্রান্ত প্রতারণা ও দুর্নীতি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ অর্থ মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে। ২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের বি আরপিডি থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা এক চিঠিতে জানানো হয়, ঋণ জালিয়াতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি সামগ্রিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একই চিঠিতে বি আরপিডি উল্লেখ করে, ঋণের জামানতের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার না থাকায় প্রায়ই এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ/আপত্তি উত্থাপিত হয়। মিথ্যা জামানতে বা একই জামানতের অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের অনিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংকের সরেজমিন পরিদর্শনে বিভিন্ন সময় উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ঋণতথ্যের মধ্যে জামানতের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করলে অসত্য কাগজপত্র দাখিল করে নেওয়া বা একই দলিলে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ হ্রাস পাবে বলে মনে করছে। অবশ্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বলছে, ঋণের তথ্য নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ছক রয়েছে সেখানে জামানতের দাগ ও খতিয়ানের তথ্য নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়। এরই সুযোগ নিয়ে ঋণগ্রহীতা প্রতারক চক্র ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া জামানত দেখিয়ে ঋণ নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা এমনটি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪ নম্বর অধ্যায়ে ব্যাংক থেকে ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া আছে সে আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণতথ্য ব্যুরো (সিআইবি) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে। তবে সিআইবি সংগৃহীত ঋণতথ্যের যে প্রচলিত ছক রয়েছে, সেখানে জামানতের প্রকৃতি ও তার আর্থিক মূল্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য থাকে, যা পূরণ করা ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ঋণতথ্যের ছকে জামানতের বিস্তারিত তথ্য যেমন জমি ক্ষেত্রে দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, পরিমাণ ইত্যাদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, জামানতসংক্রান্ত একই আদেশের ৪২ (সি) ধারা অনুযায়ী ‘ঋণতথ্য’ বলতে ব্যাংক কর্তৃক মঞ্জুরিকৃত সব ঋণসুবিধা ও রক্ষিত জামানতের তথ্য বোঝাবে। ওই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে মনে করে সেভাবেই সংগ্রহ করতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান সিআইবি প্লাটফরমে ঋণতথ্যের ছকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আইনি কাঠামোতেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে রক্ষিত জামানতের সব তথ্য যেমন দাগ, খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

%d bloggers like this: