বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির টাকা উদ্ধারের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায়: গভর্নর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির টাকা উদ্ধারের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বিষয়টি তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান গভর্নর। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এ কথা জানান।
গভর্নর বলেন, ‘রিজার্ভ হ্যাকিংয়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার চলে গেছে। সেই বিষয় আমাদের একাধিক প্রতিনিধি ফিলিপাইনে গিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমাদের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় আছি। তাৎক্ষণিক যে ১৫ বিলিয়নের মতো আমরা পেয়েছি সেটা একজন অপারেটর সালেন্ডার করে দিয়েছেন। উনি চেয়েছেন এটা দিয়ে দায়মুক্ত হতে। অন্য যেগুলো রয়েছে এর জন্য আমরা ওখানে মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টান্ট ঠিক করেছি। সেই অনুযায়ী সেখানকার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস সেটা ডিল করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে যোগাযোগ করছি। সবগুলো জুডিশিয়ারি প্রসেসে আছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল ফিলিপিন্সে।
গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংকিং বহির্ভূত যে চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা আসছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যেই আমাদের লোক তদন্ত শুরু করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশের নাম ব্যবহার করে টাকা পাঠানোয় দুবাইতে তাদের ধরা হয়েছে।’
ফজলে কবির বলেন, ‘তবে আমাদের কমিশনের চার্জ বেশি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখছি। আমাদের রিপোর্ট দুই মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হবে। তখন বিস্তারিত জানাতে পারবো।’ মানি লন্ডারিং ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর হচ্ছে বলেও জানান গভর্নর।
গভর্নর বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে প্রবৃদ্ধি এখনো জোরালো ধারায় ফেরেনি, সে কারণে বহির্বিশ্বে আমাদের রপ্তানি চাহিদার কিছুটা মন্থরতা এলেও এখনো প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। ডিসেম্বর ২০১৬ শেষে ৪.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, শুধু এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক নয় যেকোনো ব্যাংকের ত্রুটি নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওপর একটি স্পেসাল তদন্ত চলছে। তদন্তে কোনো দোষ প্রমাণিত হলে, বেনামি কোনো শেয়ার থাকলে ব্যাংকিং কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে ইতোমধ্যে আমরা একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। তিনি ব্যাংকের বোর্ড মিটিং, অডিট মিটিংসহ প্রতিটি গুরুত্বকপূর্ণ মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন।’
এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ছিলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: