বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে : এমাজউদ্দিন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : দেশে যে অবস্থা চলছে এটা চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যাবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক 123এমাজউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ইম্পিডিমেন্টস ইন ন্যাশন বিল্ডিং অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্নেল (অব.) আশরাফ আল দীন। এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইকোনমিক্স পত্রিকার ভাষায় বাংলাদেশে বিষাক্ত রাজনীতি (টক্সিক পলিটিক্স) চলছে। এটাকে বিরোধী দলকে দমনের রাজনীতি বলা যায়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে উভয় দলকে আলোচনায় বসতেই হবে। তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় আছে আর যারা বিরোধী আছে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য। যদি দলগুলো এই আলোচনায় না বসে, আর এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরো বলেন, সংলাপের উদ্দেশ্য হবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা যা সবাই মেনে নেবেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, র‌্যাব গঠন করা হয়েছে অপরাধ দমনের জন্য। অথচ তারা আজ ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজিবি প্রধান যা বলেছেন তা আমরা আশা করি না। তিনি যে পদে বসে আছেন ওই পদে থেকে এই ধরণের কথা বলা উচিত না। তাদের কাজ অপরাধী খুজে বের করা, কাউকে গুলি করা না। তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় রয়েছে তাদের মধ্যে একজন বললেন পায়ে গুলি করে কাজ না হলে বুকে গুলি করতে হবে। আবার প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বললেন বিসিএস’এর রিটেনে পাশ করলে ভাইভা আমরা দেখবো। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না বলে তারা এই ধরণের কথাগুলো বলতে পারছে। তিনি বলেন, সংসদের ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নৈতিকভাবে ক্ষমতায় গেলে তারা এগুলো বলতে পারতো না। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাদেক খান বলেন, দেশের গণতন্ত্র আজ অকেজো হয়ে গেছে। সংবিধানে এতটা কাটাছেড়া করা হয়েছে যে সেটার অবস্থাও একই। এখন গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, সংলাপের জন্য বাধ্য করতে হয়। এর জন্য যে আন্দলোন চলছে তাতে আমি ঐক্যমত পোষণ করছি। এটা চলতে থাক। গণতন্ত্রে ফিরে আসার সমাধান হল আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি। তবে দুই বা তিনটি দলের জন্য করলে হবে না, সকলের জন্য করতে হবে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে সাদেক খান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে পৃথিবীর সকল পরাশক্তি মনে করতো তাদের শক্তি দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারবে। কিন্তু তারা আজীবন টিকে থাকতে পারেনি। তাদের পরাজয় হয়েছে’। সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম স্টাডিজের (সিএনএস)র সভাপতি ব্যারিস্টার ফাতিমা আনোয়ারের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অন্যন্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল বাংলদেশ’ এর মুজিবুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*