বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুতের এ চাহিদা পূরণ, লোডশেডিং কমানো এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে তিন দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ১২০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। লাইনটি নির্মিত হলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া হয়ে সহজে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে।
প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শেরে বাংলানগর এনইসিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বগুড়া-কালিয়াকৈর পর্যন্ত ১৪০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৯ কিলোমিটার যমুনা রিভার ক্রসিং লাইন রয়েছে। কালিয়াকৈরে দু’টি ৪০০ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও পার্বতীপুরে দু’টি ২৩০ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) মিজ শামীমা নার্গিস বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সহজ হবে। বাংলাদেশ সরকার সমগ্র দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ২০২২-২৩ সালের মধ্যে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত ১৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: