বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না: শেখ হাসিনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ অক্টোবর: আওয়ামী লীগ ধরে রেখেছে এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা, তারাই দলের প্রাণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।1
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে যাচ্ছিল, তখনই সেই ভয়াবহ হামলা হয়। ওই দিন আমার পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছে। এভাবে বেঁচে থাকা যে কী কষ্টের, তা যাদের স্বজন হারিয়েছে, শুধু তারাই বুঝতে পারে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। আমাদের কোনো ঘর অন্ধকারে থাকবে না, প্রতি ঘরে আলো জ্বালব। শত ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। সরকার হতদরিদ্রের হার ১২ ভাগের নিচে নামিয়ে এনেছে।”
তিনি বলেন, “২০৪১ সালে ৮ থেকে ১০ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি নিয়ে যাবে সরকার। মাথাপিছু আয় এমনভাবে বাড়ানো হবে, যাতে বাংলাদেশের মানুষ দরিদ্র না থাকে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হবে। প্রতিটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ১৯৪৯ সালে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বাংলার মাটিতে জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় হবে না।”
তিনি বলেন, “শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে এদেশের মানুষের মুক্তি এনে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সকল রাজনৈতিক দল, নেপাল, ভূটান, রাশিয়াসহ পৃথিবীর প্রতিটি জনগন স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়। সবার প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা।” জননেত্রী যত দিন আছেন, উনিই নেতৃত্ব দেবেন

জননেত্রী যত দিন আছেন, উনিই নেতৃত্ব দিবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তারপরও আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারেনি। কোনো দিনই পারবে না। জননেত্রী যত দিন আছেন, উনিই নেতৃত্ব দেবেন।”
শনিবার আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি বলেন, “আজ আমাদের দল যেকোনো সময় থেকে শক্তিশালী।”
সৈয়দ আশরাফ বলেন, “আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, হাজারো শহীদের রক্ত, জাতির পিতার রক্ত , চার জাতীয় নেতার রক্ত, হাজার হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের নাম। আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটা অনুভূতি।”
সৈয়দ আশরাফ বলেন, “এখানে (মঞ্চ দেখিয়ে) আছেন শহীদের সন্তানেরা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পিতৃহারা। আমি একজন শহীদের সন্তান। এ আওয়ামী লীগ এ দেশটাকে স্বাধীন করেছে, বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগ্রাম করেছে। গত দুইবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। এ আওয়ামী লীগ গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়। পৃথিবীতে অনেক দল আছে। কিন্তু যে আত্মত্যাগ তা পৃথিবীর কোনো দলের সঙ্গে তুলনা হয় না। এত ত্যাগ, এত বিপর্যয়ের মধ্যেও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মধ্যে এবং পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দল”
তিনি বলেন, “আমি দুইবার দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপদেশে আমি দলকে পরিচালনা করেছি। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভাঙন ধরে নাই। আমরা সবাই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমি এবং আওয়ামী লীগে লাখ লাখ নেতাকর্মী পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করছি। আজকে আমাদের দল যেকোনো সময় থেকে শক্তিশালী। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য এ দেশে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছে। তাজউদ্দিন সাহেবকে হত্যা করেছে। মনসুর আলী সাহেবকে হত্যা করেছে।”

Leave a Reply

%d bloggers like this: