বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ও মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই : বৃটেন হলবর্ণ চেম্বার

নিউজগাঢেন ডেস্ক : বাংলাদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধানে পুনরায় কেয়ারটেকার পদ্ধতি পুনর্বহালের জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়েছেন বৃটেনে আইনজীবীদের photoস্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান হলবর্ণ চেম্বার এর প্রধান ব্যারিস্টার স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স। তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশটির গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষা সম্ভব। শুক্রবার হলবর্ণ চেম্বারে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থার লন্ডন প্রতিনিধিদের নিয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বৃটেনের বৈদেশিক সাহায্য পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়ে স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স বলেছেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই ও মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নেই। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল তাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এই অবস্থায় বৃটেনের নাগরিক হিসাবে আমাদের জানার অধিকার রয়েছে, কেন এমন একটি সরকারের প্রতি বৃটেন সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে যারা নিজের দেশের জনগণের অধিকার নির্মমভাবে দাবিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা জানি বৃটেন সরকার এখনো বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিরোধী দলবিহীন এবং ভোটারবিহীন অবৈধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। এখন আমাদের জানার অধিকার রয়েছে বৃটেন সরকার বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার আলেক্সান্ডার গালাগার, রেডভিড হেইউড, ইয়ান ম্যাকগাভিন, ক্রিস্টাল ম্যাককেন এবং ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান। তারা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে ৩০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ওইসব আসনে আওয়ামী লীগ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করে। বাকি আসনগুলোতে নির্বাচনী নাটক করলেও কমপক্ষে ৪০টি আসনে একজন প্রার্থীও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। ওই একচেটিয়া নির্বাচনের কারণে বিদেশি কোনো রাষ্ট্র নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলও পাঠায়নি। যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার  সংবিধান থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদ্ধতি পর্যন্ত বাতিল করে দেয়। ব্যারিস্টার স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। ওইদিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা ও কালোদিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে বিরোধী দলগুলো। চলতি বছর দিনটি পালন করার জন্য বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেলে দলটির চেয়ারপারসনকে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বন্দি করে রাখা হয়। এছাড়া একাধিকবার জণগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল যদি দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না এমন পরিস্থিতিতে কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বৃটেনের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। ব্যারিস্টার স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স আরো বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন। তিনি মাঝে মাঝে যুক্তরাজ্য থেকে দল ও দেশের স্বার্থে এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। কিন্তু গত ৭ জানুয়ারি দেশটির হাইকোর্ট এক আদেশে তারেক রহমানের বক্তব্য ও মন্তব্য দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আমরা মনে করি এটি সরাসরি বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী। কারো কোনো বক্তব্য ও মন্তব্য  সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক হলে শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট বক্তব্য কিংবা মন্তব্যটির ব্যাপারে আইনগত ব্যাখ্যা কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির বক্তব্য ও মন্তব্য প্রকাশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় প্রমাণ করে দেশটিতে এখন আইনের দোহাই দিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে। তিনি বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়ারম্যানকে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব গণতন্ত্র বাক স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার স্টিভেন্স আরো বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে। বিচার বিভাগও দলীয়করণ থেকে মুক্ত নয়। এমনকি সেনাবাহিনীকেও দলীয়করণ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে বাংলাদেশে এখন আইনের দোহাই দিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে। বাংলাদেশের ২০১৪ সালের খুন, গুম এবং অপহরণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ এবং র‌্যাব বিরোধী দলকে টার্গেট করে গুম খুন চালাচ্ছে। র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ক্ষমতাসীনরা জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বৃটিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তারা নিজেদেরকে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত একটি রাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ যুক্তিসঙ্গত। কারণ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। এর প্রভাব বৃটেনেও পড়তে বাধ্য। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: