বাংলাদেশের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আরসিবিসি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ডিসেম্বর ০৪, ২০১৬
রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। বাংলাদেশের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো দায় তাদের নেই—এ বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে যেতে চায় ব্যাংকটি।images
আরসিবিসির আইনজীবী (কাউন্সেলর) থিয়া দায়েবকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ফিলিপাইন এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। থিয়া দায়েব সিএনএন ফিলিপাইনকে বলেন, আরসিবিসি বাংলাদেশকে কোনো ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। আরসিবিসির আইনজীবী সিএনএনকে এ-ও বলেন, ব্যাংক রক্ষায় যত কিছু করার, সবকিছু করবে আরসিবিসি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এ অর্থের মধ্যে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ডলার ফেরত পায়নি বাংলাদেশ।
এদিকে ফিলিপাইনের দৈনিক পত্রিকা ইনকোয়ারার গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। অর্থ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির দায় এড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয় তাতে। যথেষ্ট পরিষ্কার বা ‘ক্লিয়ার এনাফ’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘এ ঘটনা থেকে আরসিবিসি কীভাবে দায় এড়াতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।’ সম্পাদকীয়টিতে প্রশ্ন তোলা হয়, আরসিবিসির গাফিলতি ও দায় কি সিনেট কমিটি, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রমাণিত হয়নি?
ইনকোয়ারার-এর সম্পাদকীয়তে আরসিবিসির আইনজীবী থিয়া দায়েব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘তিনি কোথা থেকে আইনি পরামর্শক হিসেবে আবির্ভূত হলেন, আমরা তা জানি না। চুরি হওয়া অর্থ আত্মসাৎ করতে হ্যাকারদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সিনেট, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এএমএলসির তদন্তে এরই মধ্যে প্রমাণিত। অর্থ স্থানান্তর বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত অনুরোধ পাওয়ার পরও তা আমলে না নেওয়াটা তদন্তে প্রমাণিত।’
তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ায় গত নভেম্বরে ব্যাংকটির সাবেক ট্রেজারারসহ শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছে এএমএলসি। এর আগে গত মার্চে আরসিবিসি জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোসহ চুরি হওয়া অর্থের সুবিধাভোগী একাধিক ব্যাংক হিসাবধারীর বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। এ ছাড়া গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিনেটের শুনানিতে আরসিবিসির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান বলেছিলেন, যদি তদন্তে ‘ব্যাংকটি দায়ী’ প্রমাণিত হয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যাংকের পর্ষদে সুপারিশ করবেন।
সিএনএন ফিলিপাইনকে আরসিবিসির আইনজীবী বলেছেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরসিবিসির বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশি দায়িত্বশীলদের আগে প্রমাণ করতে হবে, এ চুরির ঘটনায় আরসিবিসি অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি করেনি। বরং অপরিচিত হ্যাকাররা সিস্টেম ভেঙে নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে এ অর্থ চুরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*