বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ঘনিয়ে আসছে বিশ্বকাপের সময়। তর তর করে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনার রেণু। বাংলার বাতাসেও তার ঘ্রাণ। মাশরাফিদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে অনেকেই শঙ্কা1111 প্রকাশ করছেন। কারণ মূল আসরের আগে লম্বা একটা সময় সিরিজ খেলেনি টাইগাররা। অথচ অন্যদলগুলো এসময় নিয়মিত খেলার মধ্যে ছিল। অনেকেই এটাকে বিসিবির প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। বাইরের দেশের সঙ্গে ম্যাচ কিংবা সিরিজ আয়োজনের জন্য আইসিসির নির্ধারিত বৈঠকে প্রস্তাব তুলতে হয়। কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ‘অফ-টেবিল’ আলোচনা করে তারপরও আইসিসিকে বিষয়টি জানানো যায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার মতো দেশ বিশ্বকাপের এক মাস আগে থেকেই চুটিয়ে সিরিজ খেলছে। অথচ বাংলাদেশ তখন খেলার বাইরে! এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, ‘শক্তিশালী দেশগুলো বেশি সুবিধা নিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের ন্যায্যটা আদায় করতে পারেনি।’ বিসিবি কর্তারা যদি ‘দূরদৃষ্টি সম্পন্ন’ হতেন, তবে আলোচনা করে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হতো। কেননা ভারতকে অনুরোধ করলে তাদের রাজি করানো যেত। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আমন্ত্রণ ফেলত বলে মনে হয় না। সাকিবদের বিপক্ষে তাদের ইতিহাস তেমন ভালো নয়। তাই তারা ‘প্রতিশোধ’ নিতে খেলতে চাইতেও পারত। এ বিষয়ে বিসিবির সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপের আগে অফিসিয়াল ম্যাচের ব্যবস্থা করা যেত।’ নিজেদের সমালোচনা করে গাজী বলেন, ‘আসলে দোষটা আমাদেরই। আইসিসির সভায় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব করা উচিত ছিল। দোষটা শুধু আমি বর্তমান বোর্ডকে দিচ্ছি না। আমার সময়েও এমনটা হয়েছে।’ বিসিবি অবিবেচকের মতো এমন কাণ্ড আগেও করেছে। নিজেদের দেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে। বিশ্বকাপের আগের সময়টা সবাই যখন ২০ ওভারের খেলায় মগ্ন ছিল, বাংলাদেশ তখন কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে! ‘ফল’ এসেছে হাতেনাতে-চরম ব্যর্থতা! অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের মাটিতে খেলতে যাওয়ার আগে অনেক হিসেব-নিকেশ করে যেতে হয়। না হলে কপালে দুঃখ ছাড়া আর কিছু জোটে না। বিশ্বকাপের সকালটাও ভালো ইঙ্গিত দিল না। আনঅফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সারির দলের সঙ্গে হেরেছেন মাশরাফিরা। ‘সকাল সবসময় দিনের পূর্বাভাষ দেয় না’- বিসিবির ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ পেছনে ফেলে এ কথা সত্য প্রমাণ করতে পারবে লাল-সবুজের দল?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*