বাঁচাও শিল্প, জাগাও সুন্দরবন, জাগাও বাংলাদেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ঠিক সামনের সড়কের মাঝখানে ছালার চটের ক্যানভাসে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রদের ব্যতিক্রমধর্মী একটি প্রতিবাদ লক্ষ করা গেছে। চারুকলার একদল ছাত্র এ ক্যানভাসটি এঁকে রাস্তার ঠিক মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছে। ক্যানভাসে কিছু শ্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। সবগুলো শ্লোগানই বেশ আবেদনময়ী। যে কাউকে আকৃষ্ট করবে প্রথম দেখাতেই। শ্লোগান-সংবলিত লেখার তিনদিকে কয়েকটি ব্যবহৃত টিয়ার শেল টানিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা দেখলে যে কেউ মনে করবেন, আজ বৃহস্পতিবার ছিল তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারগ্যাস শেল) ছোড়ার প্রতিবাদে চারুকলার ছাত্ররা এ ধরনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু না, একটু ভালো করে লক্ষ করলে এখানে আরো অনেক অর্থ বের করা যাবে। এরা সবচেয়ে বড় করে লিখেছে ‘বাঁচাও চারুকলা’। চারুকলা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ? না, তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কেন এমন আবেদন ? এর উত্তর হয়তো বিভিন্ন রকম হতে পারে। বড় শ্লোগানটার নিচে আরো কিছূ শ্লোগান। এ শ্লোগানগুলোর পাশে বন্দুক দিয়ে গুলিরত পুলিশ, আগুন, মানুষের মাথার খুলি, রাস্তায় পড়ে থাকা চশমা, শিকল, তালা, গাছপালা-ঘরবাড়ি, প্রতিবাদরত মানুষ, রক্তের ফোটা এবং বিটিভির ক্যামেরা। অন্য কোথাও থেকে রক্ত না ঝরলেও চারুকলা লেখা-সংবলিত শ্লোগান থেকে রক্ত ঝরছে দেখানো হয়েছে। শ্লোগানগুলোর মধ্যে চারুকলাকে স্পষ্ট করে বড় অক্ষরে আঁকা হলেও অন্য শ্লোগানগুলোকে অস্পষ্ট করে রাখা হয়েছে। অস্পষ্ট শ্লোগানগুলো হলো বাঁচাও শিল্প, জাগাও সুন্দরবন, জাগাও বাংলাদেশ।’ বামদিকে কালো কালিতে লেখা আছে মানি না, মানবো না। চটের ক্যানভাসের নিচে রাজপথে পুলিশের ব্যবহৃত ১১টি টিয়ার শেল রাখা হয়েছে। বিটিভির ক্যামেরার সামনে লেখা রয়েছে, ‘পুরাটাই সত্য।’
এ ক্যানভাসের সামনেই অবশ্য কিছু ইট ছোড়াছুড়ির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। দুপুরের দিকে একজন পথচারী এখানে দাঁড়িয়ে ছুবি তুলতে তুলতে মন্তব্য করলেন, এটা দিয়ে যেকোনো জিনিসটা বোঝানো হয়েছে, কোনোটাকে প্রাধান্য দেয়া হলো তা বোঝা বেশ কষ্ট। সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের প্রতি যদি সংহতি হতো এ ক্যানভাসটা, তাহলে সুন্দরকেই প্রাধান্য দেয়া হতো, চারুকলা বাঁচাও না লিখে। দৃশ্যত এখানে আন্দোলন হলে, চারুকলায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়, কিন্তু চারুকলার খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্রদের কাছে সুন্দরবনকেই প্রাধান্য পাবে এটা জাতি আশা করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা চারুকলার ছাত্ররা একটা সামান্য প্রতিবাদ জানালেও এ প্রতিবাদটা ঠিক সুন্দরবনের পক্ষে গেল না। অন্তত ছালার চটের এ ক্যানভাসটা তা প্রমাণ করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*