বর্ধিত তামাক কর, বাড়বে রাজস্ব বাঁচবে জীবন: প্রজ্ঞা ও আত্মা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ মে ২০১৭, সোমবার: আজ ৮ মে  সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে প্রজ্ঞা ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স -আত্মা’র উদ্যোগে তামাকবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি), ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) সম্মিলিতভাবে ‘কেমন তামাক কর চাই’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড. রুমানা হক, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, চেয়ারম্যান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সাবেক সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) মো: আমিনুর রহমান। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিক সভাপতিত্ব করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মর্তুজা হায়দার লিটন, চিফ ক্রাইম করেসপন্ডেন্ট, বিডিনিউজ২৪.কম এবং কনভেনর, আত্মা; শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কান্ট্রি এডভাইজার, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস; ফরিদা আখতার, নির্বাহী পরিচালক, উবিনীগ; ডা. মাহফুজুল হক ভুঁঞা, গ্রান্টস ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স (সিটিএফকে); এবিএম জুবায়ের, নির্বাহী পরিচালক, প্রজ্ঞা; সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।
সংবাদ সম্মেলনে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সিগারেটের বহুস্তর বিশিষ্ট কর কাঠামো কর ফাঁকির অন্যতম উৎস। সুতরাং আমাদের ধীরে ধীরে একক কর কাঠামোর দিকে যেতে হবে। আমরা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন করতে চাইলে এই উদ্যোগগুলো আমাদের নিতে হবে। মো: আমিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সিগারেট চোরাচালান বিষয়টি অমূলক। আশা করি, এনবিআর এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে চোরাচালানকৃত সিগারেট প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়াবে। জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিক বলেন, তামাকজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় আমাদের তামাকের উপর কর বাড়ানো দরকার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং তা আদায় হয় ধফ াধষড়ৎবস অর্থাৎ মূল্যের শতাংশ হারে যা অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করে এবং কর ফাঁকির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। তাই সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০১৭-১৮ বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের প্যাকেট বা কৌটা প্রতি সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) কর আরোপের দাবি জানিয়ে নি¤েœাক্ত প্রস্তাবনা এবং সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হয়:
প্রস্তাবনাসমূহ
১.    সিগারেট (১০ শলাকার প্যাকেট): নি¤œস্তরের সিগারেটে ২৫.৯৫ টাকা, উচ্চস্তরের সিগারেটে ৪৯.৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটে ৮২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর ধার্য করে খুচরা মূল্য যথাক্রমে কমপক্ষে ৪০ টাকা,  ৭০ টাকা এবং ১২০ টাকা নির্ধারণ করা;
২.    বিড়ি (২৫ শলাকা): বিড়ির ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন এই বিভাজন বাতিল করে প্রতি ২৫ শলাকা বিড়ির উপর ১০.১৩ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করে বিড়ির খুচরা মূল্য ২২.৩০ টাকা নির্ধারণ করা;
৩.    ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (জর্দা ও গুল): প্রতি ২০ গ্রাম ওজনের ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে ১৬ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করে এসআরও এর মাধ্যমে এর খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা;
৪.    সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা।
উল্লিখিত প্রস্তাবসমূহ গ্রহণ করা হলে সিগারেট থেকে সরকারের অতিরিক্ত ৫,২০০ কোটি টাকা, বিড়ি থেকে অতিরিক্ত ১,০৩০ কোটি টাকা এবং প্রতি ২০ গ্রাম ধোঁয়াবিহীন তামাকের (জর্দা ও গুল) কৌটা বা প্যাকেট থেকে অতিরিক্ত ৬ টাকা রাজস্ব আয় হবে এবং একইসাথে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
সুপারিশমালা
১.    সিগারেটের মূল্যস্তর প্রথা পর্যায়ক্রমে তুলে দিতে হবে, এই মূলস্তর প্রথা কর ফাঁকির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার;
২.    সিগারেট, বিড়ির শলাকার সংখ্যা এবং  জর্দা, গুলের ওজনের উপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে;
৩.    পর্যায়ক্রমে সকল তামাকপণ্য অভিন্ন পরিমাণে (শলাকা সংখ্যা এবং ওজন) প্যাকেট/কৌটায় বাজারজাত করতে হবে;
৪.    আয় এবং সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধির জন্য তামাকপণ্যের মূল্য বাৎসরিক সমন্বয় করতে হবে;
৫.    খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণে তামাকের উপর বিদ্যমান রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা;
৬.    তামাকের চুল্লি প্রতি বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ করা;
৭.    তামাকের কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, কর সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কর ফাঁকি রোধকল্পে শুল্কমুক্ত বিক্রয় প্রথা তুলে দেওয়া;
৮.    তামাকপণ্যের উপর ২% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা। এখান থেকে অর্জিত রাজস্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালনায় ব্যয় করা;
৯.    একটি সহজ এবং কার্যকরী তামাককর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, যা তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*