বন্দরে ভাগ বাটোয়ারা করার জন্যই ১৫৪ কোটি টাকায় ১১টি আরটিজি কেনা হচ্ছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ২০, ২০১৬, মঙ্গলবার: ইকুইপমেন্ট সংকট ঘুচানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে জরুরি ভিত্তিতে ১১টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) কেনা হচ্ছে। কোন ধরনের টেন্ডার না করে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১১টি গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্দরের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলা হলেও অভিযোগ করা হয়েছে যে- বিশেষ বিশেষ মহলকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার জন্যই টেন্ডারে না গিয়ে ডিপিএম এর আশ্রয় নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কেবলমাত্র এনসিটিতেই ২২টি আরটিজি দরকার। অথচ বর্তমানে বন্দরের ইকুইপমেন্ট বহরে মাত্র ১০টি আরটিজি রয়েছে। এগুলোও বেশ পুরানো। প্রতিদিনই কোন না কোনটি নষ্ট থাকছে। কোন কোনটি কয়েকদিন অচল থাকার ঘটনাও ঘটছে। প্রয়োজনীয় আরটিজির অভাবে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিংসহ অপারেশনাল কার্যক্রমে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। বন্দর ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতি কেনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে ১৭টি আরটিজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ছয়টি আরটিজি কেনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। ইতোমধ্যে ওই ছয়টি আরটিজি কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ১৪ কোটি টাকা করে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি আরটিজির জন্য আহুত ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে ১৫৪ কোটি টাকায় ১১টি আরটিজি কেনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএম (ডাইরেক্ট পারচেস প্রকিউরমেন্ট) অবলম্বন করা হয়। ইতোমধ্যে নয়টি আরটিজি কেনার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি দুইটি আরটিজিও একই পদ্ধতিতে কেনার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের মাধ্যমে দুই দফায় পাঁচটি এবং নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মাধ্যমে দুই দফায় চারটি আরটিজি কেনা হচ্ছে। বাকি দুইটি আরটিজিও একই পদ্ধতিতে নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মাধ্যমে কেনা হবে। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্দরের কয়েকজন সরবরাহকারী। তারা বলেছেন, ভাগ বাটোয়ারা করার জন্যই উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে ডিপিএম পদ্ধতিতে আরটিজি কেনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পদস্থ একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আরটিজি এনে বন্দরের ইকুইপমেন্ট বহরে যুক্ত করতে ডিপিএম পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। টেন্ডার করে তা যাচাই-বাছাই করে আরটিজি আনার অর্ডার করতে করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে আমরা কী ধরনের আরটিজি চাই, আমাদের ওই আরটিজির দাম কত সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা আছে। কারণ ইতোমধ্যে আমরা ছয়টি আরটিজির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। টেন্ডারে প্রতিটি আরটিজির দাম পড়ছে ১৪ কোটি টাকা। এখন একই দামে একই মানের আরটিজি কেনার জন্য নতুন করে টেন্ডারের দরকার কি প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এখন আমরা একই দামে এগারটি আরটিজি সরবরাহ করার জন্য রাষ্ট্রায়াত্ত্ব চিটাগাং ড্রাইডক এবং নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ডকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা টেন্ডার করলেও ওই দামেই আরটিজি কিনতে হবে। শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। ততদিনে আমাদের বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি হবে। এখন দ্রুততম সময়ে আরটিজি এনে বহরে যুক্ত করা হলে বন্দর লাভবান হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: