বঙ্গোপসাগরে আশানুরুপ ইলিশ ধরা না পড়ায় চরম হতাশ জেলেরা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার ১৭ নভেম্বর: ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিন ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। ওই সময়ের পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা দেবে এমন আশায় বুক বেঁধে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন জেলেরা। তবে মৌসুমের শেষ সময় কাঙ্খিত ইলিশ ধরা না পড়ায় চরম হতাশ তারা। এ অবস্থায়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ মাছ রক্ষার সঠিক সময় চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাগরে ইলিশ মিলছে না। এতে করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অভিযানের সময় নিয়েও।Cox_Pic_16-11-2015
এদিকে ইলিশ ধরা দেবে এমন আশায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ও জাল নিয়ে ছুটছেন জেলেরা। তবে কোথাও মিলছে না রুপালি ইলিশের ঝাঁক। মৌসুমের শেষ সময় কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেসহ সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, এর প্রভাব পড়েছে কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ফিসারী ঘাটে। গত মৌসুমে প্রতিদিন শত মণ ইলিশ বেচাকেনা হলেও এবার হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৭ মণ। সরেজমিনে কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়লো।
এ বিষয়ে, বিএফডিসি মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নভেম্বরের পর থেকে মাছগুলো গভীর সমুদ্রে চলে যেতে থাকে বলে সাগরের মোহনায় ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১৫দিন তারা মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলেন। শুধু মাছ ধরাই একমাত্র পেশা হওয়ায় এ দিনগুলোতে অলস সময় পার করতে হয়েছে তাদের। ধার-দেনা করে সংসার চলেছে। ফের মাছ ধরা শুরু হয়েছে। আশা করি প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এবং তাদের ভাগ্যের চাকাও ঘুড়ে যাবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। বঙ্গোপসাগরে জাল নিয়ে ছুটলেও কোথাও মিলছে না রুপালি ইলিশ।
কক্সবাজার ফিশারীঘাটে কর্মরত সদর উপজেলা লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আসাদুল হক বলেন, বর্তমান ভরা মৌসুমে ইলিশ কাঙ্খিত ইলিশ ধরা না পাড়ায় আমার শ্রমিকরা চরম হতাশ। জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারলে আমাদের সুদিন। কারণ এ পেশার উপর নির্ভরশীল আমার সংগঠনের প্রায় ৩শ শ্রমিক। তারা এ পেশা ছেড়েও বিকল্প পেশায় যেতে পারছে না।
প্রসঙ্গত, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময় বঙ্গোপসাগর জুড়ে বিশাল এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় ছিলো নিষিদ্ধ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: