ফুলকলির পণ্য নোংরা পরিবেশে, হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রমে শিথিলতা!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ মে ২০১৯, মঙ্গলবার: মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্য সরাতে হাইকোর্টের আদেশের পরদিন দেখা যায়নি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠান দুটি বলছে, আদালতের কপি হাতে পাওয়ার পরই নেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সময় টিভি
তবে মানহীন খাদ্যপণ্য সরাতে আদেশের কপির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে আইনজীবীরা বলছেন, খাদ্যপণ্য সরাতে যে কোনো ধরনের শিথিলতা আদালত অবমাননার শামিল। আর ভোক্তা প্রতিনিধিরা মনে করেন, আদালতের এ আদেশ নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাই প্রমাণ করে।
ভোক্তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা নামীদামী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি খাদ্যপণ্য সম্প্রতি অকৃতকার্য হয় বিএসটিআইয়ের মান পরীক্ষায়। আর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে রোববার এসব মানহীন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণ, বিক্রি বন্ধ ও মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন আদালত।
সোমবার প্রতিষ্ঠান দুটি রাজধানীতে ভেজালবিরোধী অভিযান চালালেও মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে ছিলো না কোনো পদক্ষেপ। এমনকি ওইসব পণ্যের মধ্যে কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে তাদের পণ্য সরাতে কাজ করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছিল না সে তৎপরতাও।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিটি এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। এটা হালে ছয়টি টিম এক সঙ্গে কাজ করবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব মনে করে, মানহীন পণ্যের উৎপাদন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ প্রমাণ করে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আমল বলেন, আদালত বিষয়টিকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে মামুলি হিসেবে দেখছেন। এটাকে আমি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অপরাধ বলে মনে করি।
রিটকারী সংস্থার আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বলেন, আইনে তাদের বিশাল ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা তাদের প্রতিদিনকার কাজ। সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবেন এমন মন্তব্যের বিষয়টি আমার কাছে খুব দায় সারা বিষয় বলে মনে হয়েছে।
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং সংরক্ষণের দায়ে ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১২ মে) ফুলকলির রাহাত্তারপুল এলাকার কারখানায় সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্বে দেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান।
ওই কারখানায় খাদ্য তৈরি হচ্ছিল নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। পণ্য তৈরির কাঁচামালের ওপর মরা মাছি ও পোকা দেখতে পান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ফুলকলি কর্তৃপক্ষকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের সতর্ক করা হয়।
ফুলকলির কারখানায় দুধের ছানার উপর পোকা। বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান জানান, ফুলকলিতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং সংরক্ষণ করা হয়- এমন অভিযোগ পেয়ে রাহাত্তারপুল এলাকার কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফুলকলিকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নগরের বিভিন্ন খাবার তৈরির কারখানা, রেস্টুরেন্ট ও সুপার শপে র‌্যাবের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মো. মাশকুর রহমান। অভিযানে র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান, ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*