ফুটপাত ও সড়কে রমরমা বাণিজ্য!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা, সিরাজদৌল্লা রোড, মোমিন রোড পর্যন্ত থাকা ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার। এর ফলে ব্যস্ততম সড়কসমূহ হয়ে পড়েছে সংকীর্ণ। সন্ধ্যা হতে না হতেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী পথচারী ও এলাকাবাসী এ কারণে দারুণ দুর্ভোগে পড়েছে। সড়ক দখল করে পসরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের দাবি দৈনিক চাঁদা দিয়ে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করছেন তারা। কারা এই চাঁদা তুলছে প্রতিদিন। এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দরকিল্লা থেকে সিরাজদৌল্লা সড়ক ও ফুটপাত চলে গেছে অস্থায়ী বাজারের দখলে। অবাধে বসেছে শাকসবজি, ফলমূল, তরিতরকারি ও মাছের দোকান।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতে হেঁটে যাওয়ার মত কোন পথই আর অবশিষ্ট নেই। ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকান। এখন আবার মূল সড়কে বসেছে অবৈধ বাজার। বিকাল ৩/ ৪ টার পর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মত অবস্থায় থাকে না। এসব অস্থায়ী বাজারের জন্য রাস্তা পর্যন্ত সরু হয়ে গেছে। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রাস্তার ওপরেই রাখা হয় ফলের ঝুড়ি, সবজির বস্তা, মাছের জন্য আনা বরফের বাক্সসহ আরও নানা সামগ্রী। ফলে সন্ধ্যা থেকেই ওই এলাকায় জ্যামের সৃষ্টি হয়। কোনো দিকেই আসা-যাওয়ার অবস্থায় থাকে না এই সড়ক দিয়ে। গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয় পথচারীদের।
চেরাগী পাহাড়ে নিউজ করতে আসা এক ব্যক্তি জানালেন, ‘এটা অনেক ব্যস্ততম সড়ক। এমন একটা স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে কাঁচাবাজার বসা খুবই দুঃখজনক। আমাদের চলাচল করতে সমস্যা হয়। হেঁটে চলাচলের কোন উপায় নেই। গাড়িতে করে গেলে যানজটের কারণে আটকে থাকতে হয় অনেকক্ষণ।’
সন্ধ্যায় অতিরিক্ত গাড়ি রাস্তায় নামানো হয় চাকরিজীবিদের জন্য। তার ওপর রাস্তার এক পাশে হাসপাতালে রোগী বহনকারী গাড়ি ও প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন রকম গাড়ি দাঁড়ানো থাকে। সড়কের ওপর পাশে শাকসবজি, ফলমূল, তরিতরকারি ও মাছের দোকান বসে থাকে। রাস্তা হলো গাড়ি চালানোর জন্য। কিন্তু তারা রাস্তাকে বাজার আর গাড়ির স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলেছে। এই যানজটের জ্বালায় আমরা বাঁচি না।
রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসা এসব হকারদের ঘিরে পুরনো কায়দাতেই চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্যাডার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। এদের সাথে যোগ হয়েছে মার্কেট মালিকরাও। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে যেন ‘ফুট আছে পথ নেই’ অবস্থা। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রী–পথচারীরা। এছাড়া এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানের ফলে সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে এই এলাকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে শুরু করে মোমিন রোডের কদম মোবারক বাই লেন, চেরাগী পাহাড় মোড়, সিঁড়ির গোড়া ও জামালখান মোড় সংলগ্ন এলাকার ফুটপাত ও রাস্তার ওপর এখনো বিভিন্ন ভাসমান দোকান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত ভ্যানগাড়িতে করে বেশিরভাগই ভাসমান ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ ঝুঁড়ি কিংবা মাটিতে বস্তা বা পাটের থলে বিছিয়ে পণ্য বিকিকিনি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*