ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করতে পাকিস্তান জামায়াতের দাবী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ নভেম্বর: বাংলাদেশে বিরোধীদলের নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করতে পাকিস্তান সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দেশটির জামায়াতে ইসলামীর আমির সিরাজুল হক।ss
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে রোববার এক জনসভায় তিনি এ দাবি জানান। জিয়ো টিভির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামীর প্রায় ২৫ নেতা-কর্মীর ফাঁসি দেওয়ার ঘটনায় সমাবেশে হতাশা প্রকাশ করেন সিরাজুল হক। তিনি বলেন, ‘যারা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তাদেরকে সাজা দেওয়া হচ্ছে। আর পাকিস্তান সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এটা নিন্দনীয়।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবক ও বৃদ্ধরা দেশের (পাকিস্তান) জন্য জীবন উৎসর্গ করছেন। কিন্তু ইসলামাবাদ সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ জানায়নি।’ উদার দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সম্প্রতি যে বিবৃতি দিয়েছে তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল উদার পাকিস্তানের কথা বলে কাশ্মীর ও বাংলাদেশের শহীদদের ক্ষতে নুনের ছিটা দিচ্ছে। আজ যাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হচ্ছে তারা ক্ষমতার লোভে সংগ্রাম করেননি। পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা ও মতাদর্শের বিশ্বাসের একটি অংশ ছিলেন তারা। এই দেশের জন্য তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’ss-9
স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ ও এ অপরাধের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় যে চুক্তি হয়েছিল ঢাকা ও দিল্লি তা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন এ জামায়াত নেতা। সিরাজুল হক বলেন, ‘তিনি আশ্চর্য হয়েছেন যে, ১৯৭৪ সালের চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে কেন পাকিস্তান সরকার মোদি ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেনি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জামায়াত নেতাদের ফাঁসি কার্যকর ও অধ্যাপক গোলাম আজমের সাজা দেওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতার কারণে জাতির চোখে নিজেদেরকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত করেছে।’
তিনি অনুশোচনা করে বলেন, ‘সরকার যদি ঠিক সময়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে তুলত তাহলেও কিছু মানুষের জীবন রক্ষা করা যেত।’ এ ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। জামায়াতে ইসলামীর পাঞ্জাব প্রধান মিয়া মাকসুদ আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে যে নিপীড়ন চলছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ সে ব্যাপারে নীরবতা ভেঙে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতের হয়ে যুদ্ধ করছেন। সুতরাং ইসলামাবাদকে পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র নসাৎ করতে হবে।’ সূত্র: খবর ডেইলি টাইমস, জিয়ো টিভির।

Leave a Reply

%d bloggers like this: