ফসলহানির পর চালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ভিয়েতনাম থেকে আনা চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার: হাওরে আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফসলহানির পর চালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ভিয়েতনাম থেকে আনা চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। শিগগির আরও দুটি চালান এসে পৌঁছবে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সকালে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে আসা জাহাজ ‘ভিসাই ভিসিপি-জিরো ফাইভ’চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ভিয়েতনাম থেকে সরকারের আমদানি করা চাল নিয়ে জাহাজটি ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজটি তিন দিন পর আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে।
জানতে চাইলে বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত জাহাজটির শিপিং এজেন্ট ইউনি শিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দ্বিতীয় জাহাজ প্যাক্স পৌঁছবে ১৯ জুলাই, তৃতীয় জাহাজ বিএমসি কাটারিন পৌঁছবে ২২ জুলাই। তবে প্রথম চালানের আরেকটি জাহাজের এখনো শিডিউল পাইনি।’
সরকারি চাল দেশে আসার পর খালাসের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে চট্টগ্রাম পরিবহন সংরক্ষণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রক দপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জহিরুল ইসলাম বলেন, চাল পৌঁছার তথ্য আমরা মৌখিকভাবে পেয়েছি। জাহাজের স্থানীয় এজেন্টকে অফিসিয়ালি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলেছি। এরপর আমরা বাকি কাজ শুরু করব।

চালের দাম বৃদ্ধি এবং মজুদ কমে আসার প্রেক্ষিতে সরকার ভিয়েতনাম থেকে মোট আড়াই লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরকারিভাবে এই চাল কেনার চুক্তি হয়। এই দেশ থেকে সেদ্ধ এবং আতপ দুই ধরনের চালই কেনা হবে।
প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ পড়ছে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
ফসলহানির কারণে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয়ায় চলতি বোরো মৌসুম শেষে চালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য মোটা চালের দাম বাড়ে সবচেয়ে বেশি। গতবারের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়ে চালের দাম ৪৭ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠে যায়।
এই অবস্থায় গত ১৪ জুন ভিয়েতনাম থেকে সরকার পর্যায়ে চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পাশাপাশি চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ কমানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বেসরকারিভাবেও দেড় লাখ টনের মত চাল দেশে এসেছে।
যদিও চালের সরবরাহ বৃদ্ধির তেমন সুফল এখনও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম কমে এসেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের বেশি দামে কেনা আগের চাল বিক্রি হয়ে গেলেই কম দামের নতুন চাল বিক্রি শুরু হবে
চালের আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, কেজিপ্রতি ছয় টাকার মতো কমে আসবে চালের দাম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: