ফলে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক যাহা দেশদ্রোহীতার সামিল

এ কে এম আবু ইউসুফ, ৩০ মে: একসময়ে জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হতো মধুমাস। এই জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, তালসহ অনেক রকম মৌসুমী ফল পাকার মাস। এ জন্যই মধুমাস নামকরণ। আগেকার সময়ে রেওয়াজ ছিল গ্রীষ্মের ছুটিতে স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যেত। স্কুল বন্ধ থাকার সময়গুলো পরিবার বাচ্চাদের নিয়ে আম, কাঁঠাল খেতে গ্রামের বাড়িতে চলে যেত। গাছে গাছে মিষ্টি সুস্বাদু আম, লিচু, কাঁঠাল সহ নানা ফল। অনেকে এই ছুটিতে আগে আম, কাঁঠালের ছুটিও বলত। bজ্যৈষ্ঠ মাস এখনো আসে, আম কাঁঠাল এখনো পাকে তবে তা আর প্রাকৃতিকভাবে নয়, রাসায়নিক যৌগক্রিয়ায়। কিন্তু মধুময় এই সব ফল এখন বিষে ভরা। তাই জ্যৈষ্ঠ মাস এখন আর মধুমাস নেই। ফলের মধু গন্ধে এখন আর মাছিরা ভিড় করে না। ইদানিং সব ফলই পাকানো হয় মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে। চিকিৎসকরা অন্য খাবারের চেয়ে বেশি করে ফল খেতে সর্বদাই উপদেশ দিয়ে থাকেন। এখন এই বিষে ভরা ফল সম্ভার আমাদের স্বাস্থ্যের কী উন্নতি করবে না অবনতি ঘটাবে তাই waএখনই ভাববার বিষয়। প্রায়শই পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে, সবজিতে নানা ক্যামিকেল মেশানো, মাছে ফরমালিন, মসলায় ইটের গুঁড়ো থেকে শুরু করে নানান কিছু মেশানোর কথা। এখন ফলেও মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান। মানুষ তাহলে খাবে কী? গত ক’বছর ধরে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে ফল পাকানোর সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে। manএমনকি কলাও পাকানো হচ্ছে কৃত্রিম ও ক্ষতিকর উপায়ে। এ সংবাদ ভয়াবহ ও গভীর উদ্বেগজনক। খাবারে ইটের গুঁড়া থেকে শুরু করে সাবান তৈরির উপাদান ও কাপড়ের রং সহ এত ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা হয় যে, এসব খাবার খেলে মানুষের ক্যান্সারসহ নানা ভয়ানক রোগ হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্টে দায়ের করা রীটের আদেশে মাননীয় আদালত এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অবসানের জন্য দেশের সব আমদানি পয়েন্ট দিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ফল আমদানি বন্ধ করতে জাতীয় রাজস্ববোর্ড চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ফল পাকানো বন্ধে আড়তগুলোতে প্রতিদিন ফলের রাসায়নিক পরীক্ষা করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ভেজালকারী, রাসায়নিক মিশ্রিত ফলের আড়ত, দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। দোষীদের নিকট থেকে জরিমানাও আদায় করেন। তারপরেও থেমে নেই ভেজালকারীরা। যেন ভেজাল মেশানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে ভেজাল ও রাসায়নিক মেশানো পাকা ফলগুলো টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছে তাদেরই স্বজনেরা, প্রতিবেশীরা। প্রশ্ন এখানেই, কষ্ট উপার্জিত টাকা দিয়ে কি বিষ কিনে খাচ্ছি আমরা আমাদের বাচ্চাদের জন্য পরিবারের সকলের জন্য কি বিষ ক্রয় করে ঘরে নিয়ে আসতেছি? আর যারা বিষ মেশাচ্ছে এই সব ফলে তাদের বিষাক্ত উপাদানে মানবদেহে ধীরে ধীরে অকেজো হচ্ছে হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস। ক্যান্সারের মত ভয়াবহ মরণঘাতক রোগ বাসা বাঁধতেছে বিষ মেশানো পাকা ফল খাবারের ফলশ্র“তিতে। tomatoএরা কি মানুষ হত্যার চক্রান্তে মত্ত নাকি ওরা হিতাহিত ভুলে গেছে। কেনইবা তারা দেশদ্রোহীদের কাতারে পড়বে না? ফলের রাসায়নিক মেশানোর মত গর্হিত অপরাধ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হতে হবে প্রশাসনকে। অন্ততপক্ষে এই মৌসুমে প্রত্যেক ফলের আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের, জরিমানা আদায় করা ও জেলা হাজতে প্রেরণের মত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে মানুষকে বিষমুক্ত ফল খেতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে কর্তৃপক্ষ, এটাই সময়ের দাবি।
লেখক: এ কে এম আবু ইউসুফ, সাংবাদিক ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী

Leave a Reply

%d bloggers like this: