ফরিদপুরে অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ ফেব্র“য়ারী: ফরিদপুরের পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের আটটি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা চিকিৎসা সুবিধা থেকে রয়েছেন বঞ্চিত। প্রতিটি ইউনিয়নের একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেখানে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টরা যান না নিয়মিত। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ মানুষ ও গর্ভবতী নারীরা রয়েছেন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। রোগীদের দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দাবি করেছেন চরবাসী ।health photo
ফরিদপুর সদরের নর্থচ্যানেল এবং ডিগ্রীচর ও আলীয়াবাদের একাংশ, চরভদ্রাসনের ঝাউকান্দা ও হরিরামপুর এবং সদরপুরের দিয়ারা নারকেলবাড়ীয়া, চরনাছিরপুর ও চরমানাইর ইউনিয়নের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন চরগুলো জেগে ওঠার পর থেকেই। মূল ভূখণ্ডের নদী ভাঙ্গন কবলিত ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষ কোনো উপায়ন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে বসতি গড়ে চরাঞ্চলে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর নানাবিধ সমস্যাকে ছাপিয়ে সামনে চলে এসেছে চিকিৎসা সুবিধার বঞ্চনা।
এই এলাকার গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ মানুষ ও শিশুরা তাদের জীবনের সংকটাপন্ন মূহূর্তে নূন্যতম চিকিৎসা সেবাটুকুও পান না নিজ এলাকায়। ফরিদপুর শহর ও উপজেলা সদরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার সকল সুযোগ-সুবিধা থাকলেও পদ্মার দুর্গম এই চরাঞ্চলের মানুষের নেই কোন স্বাস্থ্যসেবার সুব্যবস্থা। প্রসূতি মাতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে। নদীপথে ট্রলার ছাড়া শহরে যেতে আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রসূতি মায়েরা শঙ্কিত থাকেন তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে।
চরাঞ্চলের একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি ও মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার বাহন নৌকা-ট্রলারে সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ার অনেক নজির হয়েছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অসুস্থ রোগী নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে নদীর ঘাট পর্যন্ত আসতেই লেগে যায় অনেক সময়। ঘাটে দিনেই সব সময় ট্রলার থাকে না, রাতে তো প্রশ্নই আসে না। এসব ক্ষেত্রে চরবাসীর অসহায়ত্ব সীমাহীন। একজন রোগীকে নিয়ে শহরের হাসপাতালে পৌঁছতে একদিকে লেগে যায় অনেক সময়, আর যাতায়াতে ব্যয় হয় তাদের সমর্থের চেয়েও অধিক টাকা।
ফরিদপুর পদ্মার দুর্গম চর ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুজ্জামান মিলন পাল বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার মানুষ বাস করে চরাঞ্চলে। এই এলাকার প্রসূতি মায়েরা শহরের যেতে যেতে বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। তার ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন মায়ের এভাবেই মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন, চরবাসীর জন্য বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি করে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দিতে হবে সরকারকে। তা না হলে চরাঞ্চলের দুর্গত মানুষের বঞ্চনার অবসান হবে না।
ফরিদপুর সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, এই ইউনিয়নে একটি পরিবার পরিকল্পনাকেন্দ্র ও দুইটি স্যাটেলাইট ক্লিনিক থাকলেও কোনোটিতেই এমবিবিএস চিকিৎসক আসেন না। এছাড়া এ কেন্দ্রগুলোতে চাহিদা অনুপাতে ঔষধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয় না। তিনি অভিয়োগ করে বলেন, ইউপির পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার বাধ্যতামূলকভাবে থাকার কথা থাকলেও চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে চিকিৎসকরা আসেন না।
ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফজিলাতুনন্নেছা বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসক না থাকায় আমরা দুর্গম এলাকাগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছি। তিনি বলেন, এর পরেও আমরা চেষ্টা করছি সীমিত সামর্থের মধ্যেই চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী বলেন, “চরাঞ্চলকে শতভাগ সেনিটেশনের আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ওই দুর্গম এলাকায় কোন হাসপাতাল স্থাপনের কোন উদ্যোগ এই মুহূর্তে নেই বলে জানান তিনি। তবে তিনি বলেন, শহরের স্বাস্থ্যসেবা অনেক আধুনিক। সেখানে সময় মতো কোন গর্ভবর্তী মা এলে তাদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: