প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সুচি?

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর: মিয়ানমারে ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের।susi
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দেশটির নির্বাচন কমিশন ৮০ শতাংশের বেশি আসনের ফল ঘোষণা করেছে। এতে পার্লামেন্টের ৩৪৮টি আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়িয়ে গেছে এনএলডি। এ সংখ্যা পার্লামেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে বেশি। তবে এখনও কিছু আসনের ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে।
দেশটির সংবিধানের ৬৯ ধারা অনুযায়ী, কেউ বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করলে কিংবা তার সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট পদে সুচি প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারছেন না।
তবে এনএলডি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সংবিধান সংশোধন করে সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করা হবে। সুচি বলেছেন, সাংবিধান সংশোধনের জন্য এনএলডির অন্য কারও সমর্থনের প্রয়োজন নেই। কারণ দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। তবে নির্বাচনে জয়ীরা যাতে কোনোভাবে পরাজিতদের ভাবাবেগে আঘাত না করেন, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারের পার্লামেন্টের নিকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪০ আসনের মধ্যে ৩৩০টির মধ্যে ৩২৩টিতে ৮ নভেম্বর ভোট হয়। সীমান্ত এলাকায় সহিংসতার কারণে ৭টি আসনে ভোট হয়নি। উচ্চকক্ষ জাতীয় পরিষদের ২২৪টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ১৬৮টিতে। দুই কক্ষেই বাকি ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
মিয়ানমার টাইমস জানায়, শুক্রবার পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদে এনএলডি পেয়েছে ২৩৮ আসন। জাতীয় পরিষদে দলটি ১১০টি আসন জিতে নিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পার্লামেন্টের ৩২৯টি আসন পাওয়ার দরকার ছিল এনএলডির।
সেনাবাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় থাকা ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রতিনিধি পরিষদে ২৮টি এবং জাতীয় পরিষদে ১২টি আসন পেয়েছে। এনএলডি ও ইউএসডিপির বাইরে বিভিন্ন দল মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ৩১টি এবং জাতীয় পরিষদে ১০টি আসন পেয়েছে।
২৫ বছর পর সব দলের অংশগ্রহণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৯২টি দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৬ হাজার ৩৮ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ৩১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দেশটির ৩ কোটি ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে এ নির্বাচনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সেনাবাহিনী ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে এমন সব বিধান চালু করেছে, যা ‘অগণতান্ত্রিক’ দাবি করে আসছেন এনএলডির নেতারা।
দেশটির সংবিধানে প্রেসিডেন্টই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। কিন্তু তাকেও সেনাবাহিনীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হয়। পার্লামেন্টে পাস করা যে কোনো আইনে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সেনাবাহিনীর।
এ নির্বাচনে এনএলডি বড় জয় পেতে যাচ্ছে, তা আগে অনুমান করা গেলেও সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পাওয়ার আশা ভোটের আগে সুচিও করেননি। শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রী বলেছিলেন, দল জিতলে তিনি প্রেসিডেন্টের চেয়েও ওপরে থাকবেন এবং বড় সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।
নির্বাচনের ফল বিপক্ষে যাচ্ছে বুঝতে পেরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং শাসক দল বৃহস্পতিবারই সুচিকে অভিনন্দন জানায়। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর আগে দেয়া সুচির সমঝোতার আলোচনা প্রস্তাবের ব্যাপারে দেশটির তথ্যমন্ত্রী জানান, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরেই আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন : নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করা এনএলডির প্রধান অং সান সুচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তবে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে সতর্ক করেন এ বিশ্ব সংস্থার প্রধান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: