প্রেমিকা অনশনে, প্রেমিকের বাল্যবিয়ের আয়োজন!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের ঘরের খাটের ওপর বসে প্রেমিকা যখন অনশনে, ঠিক তখন প্রেমিক সুজন বৈদ্যের বাল্যবিয়ের আয়োজন চূড়ান্ত! বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ জানলেও মিমাংসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি গত দুইদিনে। বুধবার রাত থেকে Shariatpurশরীয়তপুর সদর উপজেলার চরমধ্যপাড়া গ্রামের সনাতন বৈদ্যর ছেলে প্রেমিক সুজন বৈদ্যর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে এ অনশন অব্যাহত রেখেছেন প্রেমিকা পোষণ বেপারী (১৯)। যদিও বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার সুজন বৈদ্যর বিয়ে বন্ধের আশ্বাস দিলেও তার কথা রাখেনি ছেলে পক্ষ। তারা নড়িয়া উপজেলার কাঞ্চনপাড়া গ্রামের বাবুল মণ্ডলের মেয়ে পঞ্চপল্লী গুরুদাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুবর্ণ মণ্ডলের সঙ্গে বাল্যবিয়ের সব আয়োজন শেষ করেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান ৭ দিনের মধ্যে বিষয়টি মিমাংসা করার কথা বলে পোষণ বেপারীকে তার মায়ের কাছে তুলে দেন বৃহস্পতিবার বিকেলে। কিন্তু এরপরই প্রেমিক সুজনের কোর্ট ম্যারেজ ও রাতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের কার্যক্রম চলছে এমন খবরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ফের সুজনদের বাড়িতে অনশনে বসেছেন পোষণ বেপারী। বুধবার তিনি উঠানে বসে অনশন করলেও এবার ঘরের মধ্যে খাটের ওপর বসে অনশন করছেন। পোষণ বেপারী বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান বিয়ে বন্ধ করে ৭ দিনের মধ্যে মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে আমাকে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রাতে আমি খবর পাই অন্যত্র বিয়ে করে ফেলেছে সুজন। এ কথা শুনে আমি আবার সুজনদের বাড়িতে চলে আসি। আমার এখন কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমার পরিবারও এখন আমাকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। তাই এই বাড়িতে সুজনকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়ে থাকতে চাই। সুজন বৈদ্যর বাবা সনাতন বৈদ্য বলেন, চিনি না, জানি না একটি মেয়ে এসে আমার বাড়িতে ঝামেলা করতেছে। শুনেছি এর আগেও এই মেয়ে অন্য এক ছেলের সঙ্গে এরকম সম্পর্ক করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এটাই নাকি ওর ব্যবসা। এ ঘটনার পর থেকে আমি আমার ছেলে সুজনকে খুঁজে পাচ্ছি না। আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার বলেন, ঘটনা শুনে ছেলের বাড়িতে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি সমঝোতার আশ্বাস দেই। এ সময় মেয়েকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দিনই আমাদের না জানিয়ে অন্যত্র ছেলের পরিবার ছেলের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেলে। এখানে আমার কি করার আছে? সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি Shariatpur-2দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ডামুড্যা উপজেলার পৈতকাঠি গ্রামের সুশান্ত বেপারীর মেয়ের শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী পোষণ বেপারীর সঙ্গে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরমধ্যপাড়া গ্রামের সনাতন বৈদ্যর ছেলে সুজন বৈদ্য শান্তর প্রায় ২ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের ঘটনা উভয়ের পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে ছেলের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে না নিলে প্রায় ১ বছর আগে পোষণ বেপারী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের আর্শিবাদ ও স্বর্ণবস্ত্র দেওয়া হয়। ছেলের বাবা সনাতন বৈদ্য মেয়ের বাবা সুশান্ত বেপারীর কাছে ৩ লাখ টাকা বিয়ের খরচ হিসেবে যৌতুক দাবি করেন। দরিদ্র সুশান্ত বেপারী যৌতুকের ৩ লাখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সুজন বৈদ্যর বাবা সুশান্ত বৈদ্য বিয়ে ভেঙে দিয়ে স্বর্ণবস্ত্র ফিরত নিয়ে আসেন। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরেও সুজন বৈদ্য ও পোষণ বেপারীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বজায় থাকে। এ অবস্থায় নড়িয়া উপজেলার কাঞ্চনপাড়া গ্রামের বাবুল মণ্ডলের মেয়ে সুবর্ণা মণ্ডলের সঙ্গে সুজন বৈদ্য শান্তর ১৪ মে বৃহস্পতিবার বাল্যবিয়ের দিন ধার্য করা হয়। প্রেমিকা পোষণ বেপারী তার প্রেমিক সুজন বৈদ্যর বিয়ের খবর জানতে পেরে বুধবার রাত থেকে প্রেমিক সুজন বৈদ্য শান্তর বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: