প্রাথমিক বই মুদ্রণের সিদ্ধান্ত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ জানুয়ারী ২০১৭, রবিবার: আগামী বছর থেকে প্রাথমিকের বই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেরাই রচনা ও তা মুদ্রনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এতদিন এই কাজটি এনসিটিবি করলেও এখন আর তাদের উপর ভরসা করতে চাইছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা কোটি কোটি খরচ করে বদনাম ও সমালোচনার দায়ও নিতে চায় না। এই কারণে আগামী বছরের জন্য তারা নিজেরই বই তৈরি করবে। এই ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করবেন। মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, এনসিটিবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। তারা কাজটি নির্ভুল ও সুষ্ঠুভাবে করবে এই ভরসায় আমরা তাদের ওপর নির্ভর করতাম। এবারের ঘটনার পর আগামী বছর থেকে প্রাথমিকের বই আমরা নিজেরাই প্রণয়ন ও মুদ্রণ করার চিন্তাভাবনা করছি। এটার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, সরকারের বিনামূল্যে বই দেওয়া একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু এই উদ্যোগের প্রশংসার চেয়ে সমালোচনাই হচ্ছে বেশি। কারণ চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে অনেক কিছুই ভুলে ভরা। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই জন্য সরকার ঘটনার পেছনের ও এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সঙ্গে তারা এটাও বের করতে সক্ষম হয়েছে কি কারণে এই অনিয়ম হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতিও তারা পেয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তদন্তর জন্য যে কমিটি গঠন করেছিল ওই কমিটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাট্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এর সাতজন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের অবহেলার কারণে ও ভাবনাগত অমিলের কারণে বইয়ে এই ধরণের ভুলগুলো হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ভুলে ভরা বইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করতে সাত কার্যদিবস সময় বেঁেধ দিয়ে কমিটি করা হয়। ওই কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূহি রহমানকে। রোববার তারা কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আজকের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারলে তারা সোমবার ওই সব নামের তালিকা দিবেন ও প্রতিবেদন জমা দিবেন।
সূত্র জানায়, এসসিটিবিতে মেধাবী ও গবেষকদের দিয়ে কাজ করানোর কথা। কিন্তু তা না হয়ে সেখানে কিছু অদক্ষ লোকের কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেখানে একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে। তদন্ত কমিটি সেখানকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে। এর বাইরে তারা যারা দোষী বলে জানতে পারে তাদের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলে। আর কথা বলার মধ্য দিয়ে তারা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পায়। সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন কয়েকবার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রত্যেককে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করার কারণেই তাদেরকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র জানায়, এই ঘটনা রোববারও কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কমিটি এই সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেন তৈরি করবে। তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে মন্ত্রীর কাছে। কমিটি দোষীদের বের করার পাশাপাশি তারা এটাও সুপারিশ করবে যাতে করে আগামী দিনে এই ধরণের ভুল আর না হয়। সরকাররের বিনামূল্যে বই দেওয়ার যে সফলতা তা প্রশংসিত না হয়ে সমালোচিত হয়। আগামী দিনে নির্ভুল পাঠ্যবই প্রকাশ করা সম্ভব হয় সেই ব্যাপারে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন সেই ব্যাপারেও সুপারিশ করবে।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়্ াতথ্যের ভিত্তিতে এনসিটিবির দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি ও একজনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। এই ঘটনায় অন্য যারা জড়িত বলে নাম পেয়েছে তদন্ত কমিটি, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও সেখানকার অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিন্তাভাবনা চলছে।
তদন্ত কমিটি মনে করে, একটি বইয়ের ভুলে জন্য কেউ এককভাবে দায়ী এটা মনে করা যাবে না। কারণ একটি বই লেখা ও তা সম্পাদনার কাজ করে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। সেটি রচনা ও সম্পাদনার পর তার দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিমার্জন কমিটির কাছে। তারা পরিমার্জনের কাজটি করেন। তাদের সবার কাজ তদারকি করেন বিশেষজ্ঞ একজন। তিনি সবগুলো বিষয় দেখেন। বইয়ে কোন ভুল ত্রুটি হলেও সেটাও তিনি দেখে থাকেন। এবারের বইয়ের জন্য ৭৭ জন বিশেষজ্ঞ দায়িত্বে ছিলেন। এদের বেশিরভাগই ছিল এনসিটিবির। তাদের ৬৪ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এবারের বইয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন ৫২ জন। বাকিরা বেশিরভাগই এসেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প থেকে।
তদন্ত কমিটি একটি বই রচনা, সম্পাদনা, পরিমার্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের কার কি ব্যর্থতা রয়েছে তাও খতিয়ে দেখেছেন। এই ব্যাপারে যে সব তথ্য পেয়েছেন তাও তুলে ধরবেন।
তদন্ত কমিটি এটাও মনে করছে, এনসিটিবিতে অনেকেই রয়েছেন যারা তিন বছরের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু তিন বছরের জায়গায় তারা একযুগ সময় পাড় করেছেন। কমিটি তাদের একটি তালিকা করেছেন। তাদেরকে বদলির সুপারিশ করবেন । এক জায়গায় এতদিন থাকার কারণেও কিছু সমস্যা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে যে দুইজনকে ওএসডি ও যাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এর¦াইরেও আরো দুই জনের নাম রয়েছে। তাদের গাফলতির কারণেই এই সব হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: