প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত নেননি কামারুজ্জামান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ফাঁসিরkamaruzzaman_lawyar দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। এজন্য আরো কিছুটা সময় চেয়েছেন তিনি। তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এজন্য বেশি দেরি করা হবে না। দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে কামারুজ্জামানকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেটরা কামারুজ্জামানের সাথে কি কথা বলেছেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একথা জানান। তিনি বলেন, কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা, তা জানতে সকালে কারাগারে দুই জন ম্যাজিস্ট্রেট গিয়েছিলেন। তারা আমাকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কামারুজ্জামান সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি আরো কিছুটা সময় চেয়েছেন। তবে তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আজকের মধ্যেই কামারুজ্জামানকে প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এর বেশি সময় দেয়া হবে না। শুক্রবার কারাগারে কামারুজ্জামানকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল ও তানভীর আজিম। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হন। তবে তারা গণমাধ্যমে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এমনকি তারা কামারুজ্জামানের সাথে কোনো কথা বলেছেন কিনা তাও তারা জানাননি। এরআগে বৃহস্পবিার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে তারা বের হয়ে আসেন। এরআগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কারাফটকে পৌঁছান কামারুজ্জামানের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আইনজীবী প্যানেল কারা ফটকে যান। এরপর ১০টা ৪৫ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন। এরপর কারা বিধির আনুষ্ঠনিকতা শেষ করে তারা কামারুজ্জামানের সাথে বৈঠকে বসেন। কারাগার থেকে বের হয়ে কামারুজ্জামানের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, কামারুজ্জামান শারীরিক সুস্থ আছেন। তার মনোবল দৃঢ়। তিনি দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন এবং দোয়া চেয়েছেন। প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি চিন্তা-ভাবনার জন্য যৌক্তিক সময় চেয়েছেন। এরআগে বুধবার ৬টা ১৫ মিনিটে কামরুজ্জামানকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। এরআগে বুধবার ৫টা ৩৮ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামানের নেতৃত্বে তিন কর্মকর্তা রায়ের অনুলিপি নিয়ে কারাগারের পথে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে কারাগারে পৌঁছে দেয়া হয়। একই সময়ে রায়ের একটি করে কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রট), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বুধবার বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে রায়ের অনুলিপি পৌঁছে দেন। রায়ের অনুলিপি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামান। এরআগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার অনুমোদনক্রমে আপিল বিভাগের কনিষ্ঠ বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মনিক ৩৬ পাতার রায়ের খসড়াটি প্রস্তুত করেন। এরপর ওই রায়ের খসড়াটি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা বরাবর পেশ করেন। বিধি অনুসারে রায়টি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বরাবর পেশ করেন। এরপর বুধবার কামারুজ্জামানের রিভিউ রায়ের খসড়া তৈরির পর তাতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফিরোজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী খসড়াটি পরিবর্তন-পরিমার্জন শেষে স্বাক্ষর করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। এরপর বিধি অনুসারে রায়ের চূড়ান্ত অনুলিপি প্রস্তুত করা হয় এবং প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতি স্বাক্ষার করেন। কারামারুজ্জামানের রিভিউ রায়ের চূড়ান্ত অনুলিপি প্রিন্ট দেয়ার পর বুধবার কনিষ্ঠ বিচারপতি থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা স্বাক্ষর করেন। এরপর প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষর শেষে পূর্ণঙ্গ রায়ের কপি সুপ্রিমকোর্টের বিচার শাখায় পাঠানো হয়। এরপর রায়ের কপি সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। সোমবার সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ওইদিনই ফাঁসি কার্যকর করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ। গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল মামলার চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। মোট ৭০৫ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বাতিল ও তার খালাস চেয়েছিল আসামিপক্ষ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির একই বেঞ্চ কামারুজ্জামানের আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করে। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ তিন বিচারপতি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। অন্য দুই বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম। এরপর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মুস্তাফিজুর রহমান মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আইজিপি (প্রিজন) বরাবরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। পরে কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামারুজ্জামানকে ২০১৩ সালের ৯ মে ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত আকারে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*