প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে র‌্যাব-পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে র‌্যাব পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রতিপক্ষের আক্রমণের জবাব দিতে পাল্টা গুলিতে মারা যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ravতবে নিহতের পরিবারগুলোর দাবি সংশ্লিষ্টদের আগের রাতে বা কদিন আগে ধরে নিয়ে ঠেকিয়ে গুলি করা হচ্ছে। এতে র‌্যাব-পুলিশের এই বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মুলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব গঠিত হয়। এরপর থেকে বিপুল সংখ্যক শীর্ষ সন্ত্রাসী, পাতি সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এতে অন্যান্য সন্ত্রাসীরা রীতিমতো গা ঢাকা দেয়। হঠাৎ করেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় র‌্যাবের কর্মকাণ্ডে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিএনপি জামায়াত-শিবির নেতারা গুলিতে নিহত হচ্ছেন এতে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে র‌্যাবের কার্যক্রম। এদিকে র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর বন্দুকযুদ্ধের রীতি চালু করলেও অনেকটা পাল্লা দিয়ে পুলিশও এগোচ্ছে সেদিকে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপির নের্তৃত্বে বিশ দলীয় জোটের টানা অবরোধ সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকা পুলিশও বন্দুকযুদ্ধের কথা জানান দিচ্ছে গণমাধ্যমে। তবে নিহতদরে পরিবারগুলো দাবি করেছে, বন্দকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে মারা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাদের। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোররাত চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের একদল কর্মী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের লালবাগ এলাকায় নাশকতার জন্য জড়ো হয়েছিল। এসময় তারা পুলিশের একটি টহল দলের সামনে পড়ে যায়। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবী করছেন শিবিরের কর্মীরা এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় চৌদ্দগ্রাম পৌর শিবিরের সভাপতি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এদিকে, যশোরের শার্শা এলাকায় জামায়াতের শহীদুল ইসলাম নামের একজন কর্মী গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাতক্ষীরা জামায়াতের দু’জন কর্মীকে যশোরের শার্শা থানা পুলিশ আটকের পর আদালতে নেয়ার সময় তারা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়েছিল। পরে পুলিশ একজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকেও হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে জামায়াত। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে আরেকটি ঘটনায় রাজশাহীতে পুলিশের টহল গাড়িতে বোমা হামলা চালানোর সময় গুলিতে শাহাবুদ্দিন নামের ছাত্রশিবিরের একজন কর্মী নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ছাত্রশিবির ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই রাতে রাজশাহীর মতিহার থানা এলাকায় পুলিশের টহল গাড়ির ওপর ছাত্রশিবিরের একদল নেতা-কর্মী র্ইট-পাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপ করে। তখন পুলিশ গুলি চালালে ছাত্রশিবিরের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে একজন মারা যায়। পুলিশ দাবি করেছে, বোমা হামলায় পুলিশের একজন কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। তবে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এই তিনজন নেতা দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে পুলিশ তাদের আটক করে এবং পরে পুলিশ তিনজনকেই গুলি করলে একজন মারা যায়। ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসাবে অভিযোগ করে ছাত্রশিবির রাজশাহীতে রোববার হরতাল ডেকেছে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের গুলিতে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর ছাত্রদল সভাপতি আবদুল মজিদ আহত হয়েছেন। কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছির ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি শার্টার গান ও পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। গুলিবিদ্ধ আবদুল মজিদ ওই গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেন জানান, রাত দেড়টার দিকে আবদুল মজিদ কেড়াগাছির ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় তার সহযোগীদের নিয়ে নাশকতার পস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে উভয়পক্ষের মধ্য গুলিবিনিময় হয়। এতে আবদুল মজিদ গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে আটক করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিচার বহির্ভূত কোনো ঘটনাই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আইন ও গণতন্ত্রের কৃষ্টির পরিপন্থী। এমনটা চলতে পারে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বরাবরই এসব বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সূত্র : আমাদের সময়.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*