প্রশান্তি তপ্ত দুপুরে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৩ মে: গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে চান? চলে যান জাতীয় সংসদ ভবনের পেছনে ক্রিসেন্ট রোডে। সড়কের দুই পাশের আগুন রাঙা কৃষ্ণচূড়ার সারি ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে আপনার সব ক্লান্তি। flower-
গ্রীষ্মের শুরুতেই এবার তাপপাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নগরের গাড়ির ধোঁয়া আর কনক্রিকেটর উত্তাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ত্যাক্ত-বিরক্ত ঘর্মাক্ত নগরবাসীকে খানিকটা প্রশান্তি দিতে পারে এ রকম কিছু গাছ রয়েছে। সড়কের ধারে বা পার্ক-ময়দানে ফুটে থাকা গ্রীষ্মের উজ্জ্বল রঙের ফুল দেখে মুগ্ধ হবে না-এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল! ঢাকায় গীষ্মে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে মূলত কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও সোনালু। হঠাৎ কোথাও জারুলের খোঁজ মিললে তো কথাই নাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তো সবুজের মাখামাখি। সেখানে গেলে দেখা মেলে কৃষ্ণচূড়া ফুলের। আছে রাধাচূড়াও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ হল, কার্জন হল, টিএসসি সহ এর আশেপাশের সড়কে যেন হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণচূড়া। মাথায় ফুটেছে লাল ফুল। ফুলের আধিক্য এতই বেশি যে পাতাই যেন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্কেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কৃষ্ণচূড়া গাছ। এখানে কৃষ্ণচূড়া সঙ্গে মিতালি করে আছে রাধাচূড়াও।
চন্দ্রিমা উদ্যান লাগোয়া ক্রিসেন্ট রোডের দুই পাশেই সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ। এসব গাছে ফুল ফোটার প্রতিযোগিতা লেগেছে যেন। ক্রিসেন্ট রোডের খানিকটা দূরের বিজয় সরণী। খামার বাড়ি থেকে সংবাদ ভবন এলাকার পাশ দিয়ে এই সড়কে যেতে চোখে পড়ে দুই পাশে হলুদ পরীর রূপকথা। ফুল ফুটিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে রাধচূড়া। flower_1
নগরে অনেকেই পার্কে ময়দানে প্রাতঃভ্রমণ সারেন। যেখানে প্রকৃতি বেশ গাঢ় সেখানে মানুষের আনাগোনা বেশি। সাত সকালে ক্রিসেন্ট রোডে কথা হয় প্রাতঃভ্রমণকারী সরকারি চাকুরিজীবী আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তিনি জানান, রোজ সকালে প্রাতঃভ্রমণের জন্য শ্যামলী থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানে আসেন। ঢাকাটাইমসকে বললেন, ‘এখানে খুব আরামদায়ক আবহাওয়া। তাছাড়া এখানকার বিভিন্ন গাছের ফুল ফুটেছে। এসব ফুল দেখলে চোখ জুড়ায়। মনেও আসে প্রশান্তি’।
একই কথা বললেন মোহাম্মদুপরের বাসিন্দা আবরার হোসেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। মাঝ বয়সে এসে শরীরটাকে ঠিক রাখতে রোজ নিয়ম করে দুই বেলা হাটেন। তিনি বলেন, ‘নগরের সবখানে গাছগাছালি নেই। সবখানেই ব্যস্ততা। আছে যানজটও। তাই পার্কে আসলেই একটু আরামে হাঁটা যায়। এই পার্কের শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল’।

Leave a Reply

%d bloggers like this: