প্রবল ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম আবারো ডুবলো

আমিনুল হক শাহীন, ১৩ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: প্রবল ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম আবারো ডুবলো। বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিু চাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে গত রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর নিুাঞ্চল ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ জাহাজ ডুবির খবর পাওয়া গেছে। টানা দু’দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে নগরীর বহদ্দারহাট, খাজা রোড, মুরাদপুর, চান্দগাঁও আবাসিক, আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকা, বন্দর, পতেঙ্গা হাটু থেকে কোমর পানিতে নিমজ্জিত। চারিদিকে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। গত ১২ জুন গভীর রাত থেকে আজ ১৩ জুন বুধবার সকাল পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিপাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, বাড়ীঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। নগরীর হালিশহর এলাকার জেলে পাড়ায় প্রায় শতাধিক কাঁচাঘরবাড়ী পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগে দিন যাপন করছে পানিবন্দী এ সকল মানুষ। রমজান উপলক্ষে রোজাদারেরা দারুণ কষ্টের মধ্যে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নগরীর বৃহত্তম রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মলে জলাবদ্ধতার পানিতে থৈই থৈই করছে। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে পরিবহণ সংকটে ঈদের কেনা কাটা করতে আসা ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার পোষাক কর্মী। জলাবদ্ধতার কারণে ইপিজেড সংলগ্ন বন্দর টিলা কলসী দীঘির পাড়, আকমল আলী বেড়ীবাঁধ রোডে বসবাসকারী নিু আয়ের ভাড়াটিয়াদের ঘরবাড়ী পানিতে ডুবে গেছে। একদিকে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে গ্যাস সংকট থাকার কারণে অনাহারে অর্ধহারে দিন যাপন করছে এ সকল নিু আয়ের মানুষ। ঈদকে সামনে রেখে রেয়াজ উদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। কামরুল হুদা নামে এক ক্রেতা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ মার্কেটিং আসা তিনি জানান এ ধরনের পানিবন্দী অবস্থা থাকলে কিভাবে কেনাকাটা করবো। সিএনজি ড্রাইভার বশির জানান, ৫ মিনিট ভালভাবে গাড়ি চালাতে পারি না, জলাবদ্ধতার কারণে ইঞ্জিন ডুবে যায়। এরপর গাড়ী নষ্ট হয়ে যায়। আজ ১৩ জুন সকালে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিইসির মোড়ে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত সীমাহীন দুর্ভোগে যাত্রীদের ভ্যানগাড়ী করে অফিস আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গন্তব্যস্থানে যেতে দেখা যায়। পতেঙ্গা আবহওয়া অফিস জানিয়েছে আরো ২ দনি প্রবল বর্ষণ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষ মনে করছে জলাবদ্ধতার পানি সরে না গেলে বন্যার আশংকাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*