প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছাত্রলীগের স্মারকলিপি; বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: স্বাধীনতার অন্যন্য স্মৃতি জড়িত চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের উন্নয়নসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রলীগ। ৩১ মার্চ রবিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন এর হাতে স্মারকলিপি প্রদান করে নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফারুক ইসলাম সাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখিত প্রস্তাবনা গুলো হল- কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ, বেতার কেন্দ্র সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মাণ, বেতার কেন্দ্রের বিপরীতে অবস্থিত বাস টার্মিনাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম/খেলার মাঠ নির্মাণ, অলাভজনক ও চাহিদা শূন্য স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ভেঙে দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নামকরণে একটি উন্নত সরকারি হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়নে আশ্বস্ত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ওয়াহিদুল আলম, ফরমান আহমদ জনি, শুভ দাশ, নগর যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সদস্য এডঃ মেজবাহ উদ্দিন দোয়েল, নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রবিউল হোসেন সুমন, কার্যনির্বাহী সদস্য রাফিদুল আবরার, আতিকুল হাকিম, নগর ছাত্রলীগ নেতা এডঃ আশফাকুল কবির মার্শাল, ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদ প্রতিনিধি মোক্তার হোসেন রাজু, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার আদর, চান্দগাঁও ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা আসিফ ইমরান, আহনাফ কবির পাপন, আশরাফ রিয়াদ প্রমুখ।
প্রস্তাব গুলোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু’র ঘোষণাপত্র প্রচার হয়েছিল বীর চট্টলার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে। ঘোষণার পরপরই সারাদেশে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন অকুতোভয় বাঙালিরা। বলা যায় কেন্দ্রটি স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক সাক্ষী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও সেই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও আশপাশে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি! ঐতিহাসিক জায়গাটি ঘিরে কারো সুদৃষ্টি পড়েনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য লেখা হয়, আপনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক, শেষ আশ্রয়স্থল। আপনি সবসময় বলেছেন চট্টগ্রাম আপনার দ্বিতীয় বাড়ি। ইতিহাস ও স্বাধীনতার স্মৃতি রক্ষায় চট্টলার লাখো মানুষের প্রত্যাশার কথা আমরা তুলে ধরলাম। ছাত্রলীগের দৃঢ় বিশ্বাস যে, প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়ন হলে স্বাধীনতার স্মৃতি রক্ষায় এক অন্যন্য নজির সৃষ্টি হবে দেশজুড়ে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বেতার কেন্দ্রের পাশে বিশাল জায়গায় জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণে অন্তত শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিল ততকালীন বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। সেই অনিয়ম ও দুর্নীতি দুদক কর্তৃক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম-০৮ সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত। স্বাধীনতার পর এই আসনে আশানুরূপ উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তবে পিছিয়ে পড়া বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা ভেবে অত্র এলাকায় ১৯৯১ সাল হতে নিজস্ব অর্থায়নে একে একে অসংখ্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন চান্দগাঁও এলাকার সন্তান প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসি। এছাড়া, বলা যায় এই সংসদীয় এলাকায় দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন আজো দেখা যায়নি। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে কালুরঘাট ব্রীজ। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করছে। ব্রীজটি দুর্বল, ঝুকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠায় নতুন ভাবে ব্রীজটি নির্মাণে বছরের পর বছর দাবি জানিয়ে আসছে ব্রীজের দুইপাশে বসবাসরত বাসিন্দারা। কিন্তু আজো সাফল্যের দেখা মেলেনি। এই এলাকা অনুন্নত ও পিছিয়ে থাকার পেছনে দুইটি কারণ বলা যায়। প্রথমত স্বাধীনতার পর এই আসনে আওয়ামীলীগের কাউকে সংসদ হননি, দ্বিতীয়ত জনপ্রতিনিধিদের স্বদিচ্ছার অভাব। তবে ২০০৮ সাল হতে জোটগত ভাবে এই আসন মহাজোটের। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাথে একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ও বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের। পাশ্ববর্তী স্বাধীনতা কমপ্লেক্সটি কখনোই জনসাধারণের জন্য অনুকূল ও উপভোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়নি। অলাভজনক এই কমপ্লেক্স অনেকটা ভর্তূকি ও জোড়াতালি দিয়েই চলছে। কমপ্লেক্সটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই কমপ্লেক্স ভেঙে দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নামকরণের একটি উন্নত মেডিকেল/বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করলে জনসাধারণ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। সেই সাথে আওয়ামীলীগ সরকারের গুড ইমেজ সৃষ্টি হবে। বেতার কেন্দ্রের জায়গা যেমন পার্কের নামে বেহাত হয়েছে, তেমনি এ কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার মহামূল্যবান যন্ত্রপাতিও পাচার হয়েছে। বেতার কেন্দ্রটির বিপরীত দিকে অবস্থিত জায়গায় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার কথা ছিল অনেক আগেই। এটি স্থানান্তর না করায় রীতিমতো যানজট ও দুর্ভোগ লেগেই থাকে। বৃহত্তর এলাকাজুড়ে এখানে উল্লেখযোগ্য কোন খেলার মাঠ নেই। তাই শিশু কিশোরদের খেলাধূলার জন্য বেতার কেন্দ্রের সামনে সরকারি এই জায়গায় বাসটার্মিনাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ নির্মাণ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উল্লেখিত প্রস্তাবনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে ছাত্রলীগ।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অনুলিপি প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয় গুলো হল- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*