প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৪৬ ডলার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর, সোমবার: আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের কৌশল, অবস্থান, বক্তব্য আর অঙ্গীকার কী হবে-সে বিষয়ে জাতীয় সম্মেলনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, সভাপতির বক্তব্য, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি আর দলের ঘোষণাপত্রে থাকা বক্তব্যেই তার প্রকাশ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তারা।hasina
শনি ও বরিবারের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াও দলীয় সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই, ঠিকানা নাই। এ ধরনের নিঃস্ব, রিক্ত মানুষ আছে, কারা হতদরিদ্র, বয়ঃবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী’ তাদের তালিকা তৈরি করুন। তারা আমাদের নাগরিক, আমাদের দায়িত্ব তাদের জন্য কাজ করা। তাদের জন্য আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করবো।hasina-1
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নি প্রতিশ্রুতিও দেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, দেশ থেকে পুষ্টিহীনতা দূর করা। দেশের মানুষের জন্য সুপেয় পানি ও উন্নত সেনিটেশন ব্যবস্থা। তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গঠন করা হবে। কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করা। জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত থেকে এ মানুষকে মুক্ত করার যে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। প্রতিটি ঘরে আলেঅ জ্বালানো। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। কৃষি ব্যবস্থার যান্ত্রিকীকরণ। রাজধানীর সাথে গ্রাম পর‌্যন্ত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় এখন এক হাজার ৪৪৬ ডলার। এই আয় আমরা এমনভাবে বৃদ্ধি করবো যেন এই দেশের মানুষ আর দরিদ্র না হয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’
অন্যদিকে দলটির ঘোষণাপত্রেও দলের আগামীদিনের পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। নেতারা জানান, দলের ঘোষণাপত্র মানে হল দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের জন্য কি করবেন তার পরিকল্পনা। আর আমাদের ঘোষণাপত্রেও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।hasina-2
এ ঘোষণাপত্রে প্রাধান্য পেয়েছে বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট) বাস্তবায়ন, শিল্প-বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও আইসিটি খাতগুলো।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়নের চাকায় নতুন গতি সঞ্চারের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রয়োজন হয়। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘সজোরে ধাক্কা ’ (বিগ পুশ ) বলা হয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ১০টি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- স্বপ্নের পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা দ্রুত গণপরিবহণ, এলএনজি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট, মাতারবাড়ী একহাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৯.৫ কি.মি. রেললাইন স্থাপন। আওয়ামী লীগ এ সকল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী সভাপতির বক্তব্য আগামীদিনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সম্মেলনে দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। তাদের তিনি আগামীদিনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। এবং এ অনুযায়ী কাজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা বলেন, একসময় মনে হয়েছে বাংলাদেশে যে কোন সময় একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে তা দূর হয়েছে। কারণ দলটি মধ্যবর্তী নয় আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করে উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শান্তনু মজুমদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে দলটি তাদের তৃণমূলের শক্তিমত্তা বুঝবার চেষ্টা করছে। এছাড়াও সাধারণ জনগণও অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সম্পর্কে কি ভাবছে তা বুঝবার চেষ্ট করছে। তবে দলীয় প্রধানের বক্তবে যেটা বুঝাগেল সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি।
আওয়ামী লীগ সরকার ছয়টি নতুন বিশ্ববিদ্যাল প্রতিষ্ঠা করেছে। আগামীতে আরো সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একহাজার কোটি টাকা স্থায়ী তহবিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন হয়েছে। দেশের শিক্ষার হার ৭১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয়ে পরিণত করার কাজ দ্রুততার সাথে চলছে।
প্রতিটি গ্রামে গৃহহারা মানুষদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া। এ জন্য দলের নেতা-কর্মী এবং সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদেরকে হতদরিদ্রদের তালিকা করার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*